মেলবোর্ন, ২ অক্টোবর- টেলিটকের নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে আয়োজিত এক গণশুনানিতে গ্রাহকেরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের অফিসেই নেটওয়ার্ক নাই নাকি স্যার? কথা আসতেছে না কেন!”—এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার বাস্তবতা আবারও সামনে আসে।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া আরও অনেক গ্রাহক জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক দুর্বল, ইন্টারনেটের গতি অত্যন্ত ধীর এবং কল ড্রপের সমস্যাও ব্যাপক। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি অপারেটর হিসেবে ভরসা করলেও সেবার মান তাদের হতাশ করেছে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার গ্রাহক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘এই এলাকার কোথাও নেটওয়ার্ক কভারেজ নাই। এমবি কিনেও ব্যবহার করা যায় না। আধা ঘণ্টা দূরে দিনাজপুরে গিয়ে এমবি ব্যবহার করতে হয়।’
রাজশাহী বিভাগের একজন গ্রাহক টেলিটকের সেবার ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার এলাকায় কারেন্ট গেলেই নেটওয়ার্ক হাওয়া। এক সেকেন্ডের জন্য কারেন্ট গেলেও নেটওয়ার্ক চলে যায়। টাওয়ারে ব্যাটারি ব্যাকআপ নাই।’
এদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই গণশুনানি। ১৫ জনের মতো গ্রাহক ও টেলিটকের স্থানীয় প্রতিনিধি এই শুনানিতে কথা বলার সুযোগ পান। গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেকটা দায়সারাভাবে করা হয়েছে এই গণশুনানি। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। এমনকি অংশীজনেরাও এই গণশুনানির বিষয়ে জানেন না।
এ সময় টেলিটক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে এখনো কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নতুন টাওয়ার স্থাপন এবং ৫জি পরিষেবার প্রস্তুতির মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করার আশ্বাস দেন তারা।
গ্রাহকেরা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে টেলিটক আবারও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে।