তিন মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- দুটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। এর…
মেলবোর্ন, ৭ অক্টোবর- বাংলাদেশে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তার সঙ্গেই কাজ করবে ভারত।
সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিক্যাব) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা বলেন বিক্রম মিশ্রি। বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল, যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) বি. শ্যাম, ডিক্যাব প্রেসিডেন্ট এ. কে. এম. মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মামুন উপস্থিত ছিলেন।
ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ২৩ সদস্যের ডিক্যাব প্রতিনিধিদল বর্তমানে দেশটি সফর করছে।
নির্বাচনের প্রতি ভারতের অবস্থান
বিক্রম মিশ্রি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে যে সরকার আসবে, তাদের সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।” প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানিবণ্টন ইস্যু এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে থাকা উদ্বেগের বিষয়সহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পর্যায়ে রয়েছে। শুধু এই অঞ্চল নয়, বৈশ্বিকভাবেও বাংলাদেশে পরবর্তী রাজনৈতিক ধাপের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে।”
বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, “ঘোষণাগুলো আমরা সবাই দেখেছি। আমার বোঝায়, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের একটা সময়সীমা নির্ধারণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।”
বিক্রম মিশ্রি বলেন, “নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার যে বার্তা দিয়েছে, তা আমাদের জন্য উৎসাহজনক। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি সরকার গঠিত হবে এবং সেই সরকারের সঙ্গে ভারত কাজ করবে।”
শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশের উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতিতে ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মিশ্রি বলেন, “বাংলাদেশে উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে। এই বিষয়গুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং আমরা সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। এটি শুধু ভারতের স্বার্থে নয়, উভয় দেশের স্বার্থেই প্রয়োজন।”
বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনের প্রশ্নে
একটি বড় দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মধ্যে আমি প্রবেশ করতে চাই না। এই নির্বাচন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে কীভাবে দেখা হবে, সেটা বাংলাদেশের জনগণ, সুশীল সমাজ ও কর্তৃপক্ষকেই মূল্যায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এগুলো শুধু বর্তমান নয়, মধ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদেও প্রভাব ফেলবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে ‘ম্যান্ডেট’ আসবে, তা নিয়ে ভারত কোনো অবস্থান নেবে না বলেও স্পষ্ট করেন বিক্রম মিশ্রি। “ম্যান্ডেটকে কীভাবে দেখা হবে, সেটি বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্ত—ভারত এতে হস্তক্ষেপ করবে না,” বলেন তিনি।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলছে কিনা, এমন প্রশ্নে বিক্রম মিশ্রি বলেন, “এটি বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। আমরা বিষয়গুলো পরীক্ষা করছি এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় আছি। এখন এ বিষয়ে আরও কিছু বলা গঠনমূলক হবে না।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও ভারত তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পরিবর্তন আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক বা কাজের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেনি।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমি শুধু এটুকু বলতে পারি—বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আমরা অত্যন্ত মূল্য দিই।”
সুত্রঃ ইউএনবি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au