ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন ২১ অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন,
“ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখতেই পারেন ট্রাম্প, কিন্তু বাস্তবে তা কোনো দিন সম্ভব নয়।”
সাম্প্রতিক এক টেলিভিশন ভাষণে খামেনি বলেন, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং কোনো বিদেশি হুমকিতেই তারা পিছু হটবে না। তিনি আরও বলেন,
“আমরা আগেও আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের হুমকি শুনেছি। কেউ বলে ‘সব বিকল্প খোলা আছে’, কেউ বলে ‘ইরানকে শিক্ষা দেওয়া হবে’। কিন্তু তারা কখনো কিছু করতে পারেনি, এবারও পারবে না।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ক্ষমতায় ফিরলে “ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেবেন” এবং ইরানকে “কঠোরভাবে শাস্তি দেবেন” যদি তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যায়। তাঁর এই বক্তব্য তেহরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যকে “বেপরোয়া যুদ্ধোন্মাদ ঘোষণা” বলে উল্লেখ করেছে।
খামেনি বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধ চায় না, তবে “যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে তার জবাব দ্বিগুণ শক্তিতে দেওয়া হবে।” তিনি জানান,
“আমাদের বৈজ্ঞানিকরা এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কেউ যদি সেগুলোর দিকে তাকায়, আমরা চোখের পলকে তার জবাব দেব।”
খামেনির এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা “সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে দেওয়া কঠোর বার্তা” হিসেবে দেখছেন।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও, কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক বলেছেন, ট্রাম্পের এ ধরনের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে “বিতর্কের পরিবর্তে সংলাপে ফিরে আসার” আহ্বান জানিয়েছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি (JCPOA) থেকে সরে দাঁড়ায়।এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে যায়।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েল-ইরান বিরোধ, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি ইরানের সমর্থন ইস্যু নিয়েও নতুন করে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য এবং খামেনির পাল্টা হুঁশিয়ারি আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তারা সতর্ক করেছেন, যদি উভয় পক্ষ উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা ব্যবহার অব্যাহত রাখে, তবে তা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যেই সীমিত থাকবে না বরং আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সুত্রঃ এএফপি