মেলবোর্ন, ২১ অক্টোবর: অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর টেসলা গাড়িতে আগুন ধরে যায়, যা নেভাতে দমকলকর্মীদের কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। “থার্মাল রানঅ্যাওয়ে” নামের এই বিপজ্জনক ব্যাটারি আগুনের ঘটনায় গাড়ির চালক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন এবং এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন।
১৭ অক্টোবর, শুক্রবার দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিটের দিকে টারি (Taree) শহরের দক্ষিণে রেইনবো ফ্ল্যাট (Rainbow Flat) এলাকার কাছে (Pacific Highway) প্যাসিফিক হাইওয়েতে টেসলা মডেল ওয়াই (Tesla Model Y) গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে।
নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানান, ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মুখ, হাত ও বাহুতে গুরুতর পোড়া অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে ম্যানিং বেস হাসপাতাল (Manning Base Hospital) এ নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাসিফিক হাইওয়েতে টেসলা গাড়ি দুর্ঘটনায় ভয়াবহভাবে দগ্ধ হন চালক।
(ছবি: ফেসবুক)
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ এনএসডব্লিউ (Fire and Rescue NSW) নিশ্চিত করেছে যে দুর্ঘটনার পর টেসলার ব্যাটারি “থার্মাল রানঅ্যাওয়ে”-তে পড়ে যায় এবং সেটিকে ঠান্ডা করতে দমকলকর্মীদের কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে।
প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র বলেন,
“ইলেকট্রিক গাড়ির আগুন খুবই বিরল, সাধারণত কেবলমাত্র বড় ধরনের দুর্ঘটনার পরই এমন ঘটে। যান্ত্রিক ক্ষতি ছাড়া আমরা ইভি গাড়িতে আগুনের সমস্যা দেখি না।”
ডায়মন্ড বিচ রুরাল ফায়ার সার্ভিস (Diamond Beach Rural Fire Service) তাদের ফেসবুক পোস্টে জানায়, “দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর টেসলার ব্যাটারি প্যাক ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’ অবস্থায় চলে যায় অর্থাৎ জ্বলতে থাকা ব্যাটারি সেলগুলো নিজেরাই আগুন জ্বালিয়ে রাখে।”
এই ধরনের ব্যাটারি আগুন বিশেষভাবে বিপজ্জনক কারণ এটি দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে এবং সম্পূর্ণভাবে নেভানো কঠিন হয়। কখনো কখনো এমন ব্যাটারি আগুন নিভে যাওয়ার কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর আবার জ্বলে উঠতে পারে।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আগুন থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে
রুরাল ফায়ার সার্ভিস (RFS) জানায়, তারা পাঁচ বছর আগে থেকেই এ ধরনের ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’ অগ্নিকাণ্ডের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। “দমকলকর্মীরা জানতেন যে নিরাপদ দূরত্ব ও বাতাসের বিপরীত দিকে থেকে কাজ করতে হবে,” সংস্থাটি জানিয়েছে।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০,০০০ লিটার পানি ব্যবহার করে আগুন নেভাতে সক্ষম হন এবং ধ্বংসস্তূপ ঠান্ডা করেন যাতে সেটি নিরাপদে ট্রাকে তোলা যায়।
গাড়িটি পরবর্তীতে রেইনবো ফ্ল্যাট আরএফএস স্টেশনে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়, যেন আগুন পুনরায় জ্বলে উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
দমকলকর্মীরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে তাদের ইউনিফর্ম পরিষ্কার করেন, কারণ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আগুন থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে।
— সংবাদ: ডেভিড ম্যাককাওয়েন, নিউজ.কম.অ.ইউ