কারাবাস থেকে আবারও গৃহবন্দী অং সান সু চি
মেলবোর্ন, ১ মে- মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দীর্ঘদিনের কারাবাসের পর এই…
মেলবোর্ন, ২৩ অক্টোবর- জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য হবে আগামী ১৩ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সিদ্ধান্ত জানায়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঘোষণা দেন।
এদিন প্রসিকিউশনের যুক্তি-খণ্ডন এবং সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এর মধ্য দিয়ে মামলার যুক্তিতর্ক পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
এর আগে বুধবার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এবং রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষে আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এরপর প্রসিকিউশন তাদের জবাব দেবে এবং তারপরই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল সোয়া তিনটা পর্যন্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমির হোসেন টানা যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনদিনের যুক্তিতর্ক শেষে তিনি তার মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সাক্ষ্যই পক্ষপাতদুষ্ট বা গোপন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাহমুদুর রহমানসহ কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যকে তিনি অবিশ্বস্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা যুক্তি উপস্থাপনে বলেন, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রামাণ্য দলিল, সাক্ষ্য ও প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত।
এর আগে ১৬ অক্টোবর প্রসিকিউশন তাদের পাঁচদিনের যুক্তিতর্ক শেষ করে শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের সর্বোচ্চ দণ্ডের দাবি জানায়। তারা বলেন, একাত্তরের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা, গুম-খুনসহ রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতা এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে সংঘটিত ঘটনাগুলো সবকিছু বিচার করে এ রায় দেওয়া জরুরি।
মামলাটিতে মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। ৮১ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে প্রমাণপত্র, দালিলিক নথি এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ যুক্ত রয়েছে বলে আদালত জানায়।
এই মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন এবং আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
সবশেষে আদালত জানায়, সব যুক্তি-তর্ক শেষ হওয়ায় এখন আর সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। আগামী ১৩ নভেম্বর রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে, যেখানে দেশ-বিদেশের দৃষ্টি থাকবে এই মামলার ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au