কারাবাস থেকে আবারও গৃহবন্দী অং সান সু চি
মেলবোর্ন, ১ মে- মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দীর্ঘদিনের কারাবাসের পর এই…
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- ইস্রায়েলের কনস্টিটিউশনাল পর্যায়ে সম্প্রতি পাস হওয়া বা অন্তত প্রথম পড়া (preliminary reading) হিসেবে নিশ্চিত পশ্চিম তীরের অংশ সংযুক্তির একটি বিলকে কেন্দ্র করে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে কড়া হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যদি ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে আনেকশান (annex) করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “সব ধরনের সমর্থন” প্রত্যাহার করতে পারে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কনস্টিটিউট (Knesset)-এ বুধবার অনুষ্ঠিত একটি পরিবর্তিত ভোটে পশ্চিম তীরের কিছু অংশে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব জারি করার বিধান প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে গৃহীত হয় এটি পরবর্তীতে আরও আইনি ও সংবিধানগত প্রক্রিয়া ও আলোচনা পেরিয়ে চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। ওই ভোটটি প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহ ছাড়াই ওভারেরপালে গৃহীত হওয়া প্রতীয়মান কয়েক তরফের মতে এটি একটি রাজনৈতিক তৎপরতা/প্রচেষ্টা ছিল।
টাইম ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন স্রোত ট্রাম্পের কথাবার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, “আমি আর ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর আনেকশান করতে দেব না আমি আর তাদেরকে সব ধরনের সমর্থন দেব না যদি তারা এটা করে” ট্রাম্পের এই মন্তব্য কূটনৈতিক অশান্তি বাড়িয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ ভোটকে ‘অমর্যাদাকর’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রহসন’ বলে বর্ণনা করেছেন, এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (Secretary of State) মারকো রুবিও সতর্ক করেছেন যে এমন শাসনবিস্তার গম্ভীরভাবে গাজার গোলাবস্থা ও শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্বজোড়া কূটনীতিতে পশ্চিম তীরের আনেকশনকে আইনগতভাবে বহুল সমালোচিত বহু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখে। তাছাড়া ২০২০ সালের আব্রাহাম অর্ডারসের (Abraham Accords) মতো আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণ চেষ্টাকে ও প্রভাবিত করতে পারে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই বারবার বলেছেন যে আনেকশন ‘রেড লাইন’ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে ট্রাম্পের হুমকির সঙ্গে মিলিয়ে অঞ্চলটি কূটনৈতিকভাবে আরও স্পর্শকাতর থেকে উঠছে।
এই বিলটি প্রধানত ইসরায়েলের ডানপন্থী ও আল্ট্রা-জাতীয়তাবাদী বক্তৃতা সম্পৃক্ত সদস্যদের অনুৎপ্রেরণায় এগোনো হয়েছে; তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যিনি পশ্চিম তীর সংক্রান্ত নীতিতে জটিল ক্ষমতাসমরূপ এই ধরনের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। কনস্টিটিউটভিত্তিক এধরনের অগ্রগতি অনেক সময় সরকারি নীতির বাইরে রাজনৈতিক নাটকের অংশ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু এতে তাত্ক্ষণিক কূটনৈতিক ফলাফল সৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী বহু রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তি এই পদক্ষেপকে স্থূল রূপে সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রই যদি বাস্তবে সরাসরি সহায়তা কমায় বা কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে, তাহলে ইস্রায়েলের জন্য বড় কৌশলগত ও আর্থিক ব্যয় দেখা দিতে পারে উদাহরণস্বরূপ নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক অনুদান বা কূটনৈতিক সমর্থনের কিছু অংশে পরিবর্তন ঘটতে পারে। একই সাথে, অনেকে মনে করেন ট্রাম্পের হুমকি রাজনীতিক্যাল ব্রিস্টল (political leverage) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—যদি ইসরায়েল নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে বা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সমঝোতা করে, বৃহত্তর উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে।
Knesset-এর ফাইনাল ভোট, সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ বা আইনগত চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প প্রশাসনের কি ধরনের কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখায় শব্দস্তরের হুঁশিয়ারি বনাম কার্যকর নিষেধাজ্ঞা/সহায়তা পরিবর্তন। আমিরাত, সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব অংশীদাররা কতটা দৃঢ়ভাবে বিরোধ জানায় বা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করে।
ইসরায়েলের কনস্টিটিউটিভ স্তরে পশ্চিম তীর সংযুক্তির প্রস্তাব প্রথম ধাপ পেরোনোর পর এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শক্তভাবে হুঁশিয়ারি করেছেন বলতে হয়েছে, আনেকশন হলে যুক্তরাষ্ট্র “সমস্ত সহায়তা” প্রত্যাহার করতে পারে। এই পরিস্থিতি কেবল ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে বড় ওঠা-নামার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে; পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে কনস্টিটিউটিভ ভটিং, আমেরিকার কার্যকর সিদ্ধান্ত ও আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া এখানে মূল নির্ধারক ভূমিকা রাখবে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au