ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সনদ কনভেনশন ১৯০, ১৫৫ ও ১৮৭ অনুমোদন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই তিনটি সনদে একসঙ্গে যোগ দিয়ে শ্রমিক অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। বহু বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রি-অল গ্লোবাল ইউনিয়ন ও দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তারা মনে করছে।
এই সনদগুলোর মধ্যে কনভেনশন ১৯০ কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে। শহর হোক বা গ্রাম, সরকারী-বেসরকারি যেকোনো কর্মক্ষেত্র, কর্মরত কর্মী, প্রশিক্ষণার্থী কিংবা চাকরিপ্রত্যাশী সবার নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষাই এর মূল উদ্দেশ্য। কনভেনশন ১৫৫ কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ঘটনা কমানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেয় এবং প্রতিটি দেশকে নিজস্ব প্রেক্ষাপটে ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়নের সুযোগ রাখে। আর কনভেনশন ১৮৭ একটি টেকসই ও সমন্বিত কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেয়, যেখানে সরকার, মালিক এবং শ্রমিকের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করবে।
সোম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও ইন্ডাস্ট্রি-অলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজমা আক্তার এই অর্জনকে শ্রমিকদের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকরা বহু বছর ধরে মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছেন। এখন সবচেয়ে বড় কাজ হবে এই সনদগুলো বাস্তবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা, যেন প্রতিটি নারী ও শ্রমিক ভয়ের বাইরে থেকে কাজ করতে পারে।
রানা প্লাজা ধসের পর থেকে বাংলাদেশে শ্রমিক নিরাপত্তার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ ও আলোচনা জোরালো হয়। ২০১৩ সালে রানা প্লাজায় ১,১৩৮ জন মানুষ যাদের বেশিরভাগই পোশাকশ্রমিক প্রাণ হারানোর পর ইন্ডাস্ট্রি-অল ও ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে মিলে তৈরি করে ‘বাংলাদেশ অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি’। এই চুক্তি পোশাক কারখানাগুলোতে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ ছিল। পরে ২০২০ সালে এই ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গড়ে তোলা হয় ‘রেডিমেড গার্মেন্টস সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল’ বা আরএসসি, যা কারখানার নিরাপত্তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
এদিকে, নারীকর্মীদের কর্মস্থল নিরাপত্তা ও হয়রানি প্রতিরোধেও ইন্ডাস্ট্রি-অল বেশ কিছু কার্যকর উদ্যোগ নেয়। তারা কারখানাগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন, অভিযোগ নিষ্পত্তির নারীবান্ধব কাঠামো এবং শ্রমিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব দেয়। এই কাজ আরও শক্তিশালী হয় এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্সসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে, যেখানে সরবরাহকারী কারখানাগুলোকে তাদের দায়িত্ব ও জবাবদিহির মধ্যে আনা হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে ইন্ডাস্ট্রি-অলের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে। তারা বাস্তবসম্মত শ্রম আইন সংস্কার, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মান উন্নয়ন এবং সব শ্রমিকের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানায়। ইন্ডাস্ট্রি-অলের মহাসচিব অ্যাটলে হোয়ি এই অর্জনকে বিশ্বের শ্রমিকদের সংহতি ও ট্রেড ইউনিয়নের অব্যাহত আন্দোলনের ফল বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি, শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন ও সামাজিক সংলাপ ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
এই সময়ে দেশে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিনিধিরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে নিরাপত্তাহীনতার মূল্য সবচেয়ে বেশি দিতে হয় শ্রমিককেই। এছাড়া ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো এলাকায় আগুন লাগা নিয়ে পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইএলও সনদে বাংলাদেশের যোগদান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন দৃষ্টি থাকবে—এই অঙ্গীকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
সুত্রঃ জাস্ট স্টাইল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au