রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনা কমান্ড সেন্টার পরিদর্শন করার সময় বক্তব্য রাখছেন। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- রাশিয়া সম্প্রতি তার নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র 9M730 বুরেভেস্টনিক (NATO কোডনেম: SSC-X-9 “স্কাইফল”) সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পরীক্ষার খবর নিশ্চিত করেছেন, যা রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরীক্ষার তারিখ: ২১ অক্টোবর ২০২৫,যাত্রার সময়কাল: ১৫ ঘণ্টা,যাত্রার দৈর্ঘ্য: ১৪,০০০ কিলোমিটার,পারমাণবিক রিয়্যাক্টর চালিত, যা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে সক্ষম করে।ক্ষেপণাস্ত্রটি নিম্ন উচ্চতায় উড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে সক্ষম, এবং এর গতিপথ পূর্বানুমান করা কঠিন।
বুরেভেস্টনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ পারমাণবিক রিয়্যাক্টর চালিত হওয়ায় এটি কার্যত অসীম পরিসীমা সম্পন্ন।ক্ষেপণাস্ত্রটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।এতে একাধিক ওয়ারহেড বহন করার ক্ষমতা রয়েছে, যা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে সক্ষম, যা এটি একটি শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বুরেভেস্টনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এর সাবসনিক গতি, রেডিয়েশন নির্গমন এবং পরীক্ষার সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলি এই অস্ত্রের ব্যবহারিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তবে, রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রকে তার পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি নতুন স্তর হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা বিশ্বে অন্য কোনো দেশের কাছে নেই বলে দাবি করেছে।
রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তার মিসাইল রেজিমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে, এর পরিবহন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স