ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষের পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা আজ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। তুরস্কের ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে “দ্রুত সমাধানের আশাবাদ” ব্যক্ত করেছেন।
গত কয়েক সপ্তাহে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে উভয় দেশের অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের সীমান্তে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আফগান প্রশাসন বলছে, পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
এই উত্তেজনা প্রশমনে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইস্তানবুলে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তৃতীয় দিনের বৈঠকে নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল স্পষ্ট জানায়, “আফগান ভূমি থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা সহ্য করা হবে না।”
অন্যদিকে আফগান পক্ষ জানায়, তারা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে না এবং পাকিস্তানের বিমান হামলায় তাদের সীমান্ত এলাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা চায় এই হামলার “স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাবদিহিতা।”
আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন,
“আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশ্বাস করি, খুব দ্রুত এই সংকটের সমাধান সম্ভব।”
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন,
“এই আলোচনাকে স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে নিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দু’পক্ষই ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং পারস্পরিক আস্থার অভাব—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার বড় বাধা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে “ওপেন ওয়ার” বা সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে উভয় দেশই জানিয়েছে, আলোচনার দরজা বন্ধ হবে না।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আলোচনায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং যৌথ সীমান্ত নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। যদি তা বাস্তবায়ন হয়, তবে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এটি হবে একটি বড় অগ্রগতি।
ইস্তানবুলে চলমান এই শান্তি আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন এই আলোচনাকে আশাব্যঞ্জক করে তুলেছে। আগামী সপ্তাহে আরেক দফা বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্য পুনরায় চালুর বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে বলে জানা গেছে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au