ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৯ অক্টোবর: বাংলাদেশে রাউন্ডটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিক মনজুরুল আলম পন্না-এর গ্রেফতার নিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে তার তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের দমন করা হচ্ছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি।
মনজুরুল আলম পন্না, যিনি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্রো পরিচালনা করেন, ২৯ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক রাউন্ডটেবিল আলোচনায় সাংবাদিক হিসেবে অংশ নেন। আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘মঞ্চ ৭১’, যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করে।
সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (DRU) মিলনায়তনে। তবে সভা চলাকালে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করে এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে তারা “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীল”।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর, এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে পরবর্তীকালে তীব্র বিরোধী মনোভাব দেখা যায়। RSF জানায়, এই প্রেক্ষাপটেই সভাটি আক্রমণের শিকার হয়।
ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা থামাতে মনজুরুল আলম পন্নাই পুলিশকে ডাকেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, হামলাকারীদের গ্রেফতার না করে পুলিশ উল্টো সভায় উপস্থিত ১৬ জনকে আটক করে, যার মধ্যে সাংবাদিক মনজুরুল আলম পন্নাও ছিলেন।
পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে “অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্র” করার অভিযোগ আনা হয় বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে- যা RSF-এর মতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
RSF-এর দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের প্রধান সেলিয়া মার্সিয়ে বলেন –
“সাংবাদিক মনজুরুল আলম পন্নার আটকাদেশ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রকাশ করে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে।
দেশের ইতিহাস ও সংবিধান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য একজন সাংবাদিককে সন্ত্রাসীর মতো আচরণ করা অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, RSF সাংবাদিক পন্নার বিরুদ্ধে আনা সব মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার ও তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছে।
মনজুরুল আলম পন্নার জামিন আবেদন ৪ সেপ্টেম্বর খারিজ করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো বিচার তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
জামিন শুনানির সময় দুই সাংবাদিক – সময় টিভির আসিফ মোহাম্মদ সিয়াম ও বাংলা আউটলুকের মুক্তাদির রশীদ রোমিও – আদালত প্রাঙ্গণে পন্নার সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করলে এক আইনজীবী তাদের বাধা দেন। সিয়ামকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়, এবং রোমিওকে মৌখিকভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে RSF জানিয়েছে।
RSF বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক বিচার শুরুর অপেক্ষায় আটক রয়েছেন –
একাত্তর টিভির ফারজানা রূপা,শাকিল আহমদ,মোজাম্মেল বাবু,স্বাধীন সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির,এবং দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সাংবাদিক শ্যামল দত্ত।
সংগঠনটি বলেছে, এসব ঘটনায় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি আরও গভীর হচ্ছে।
RSF ছাড়াও একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই গ্রেফতারকে “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত” বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন যেভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত এবং এটি সাংবাদিকতা ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতার জন্য ভয়ংকর দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন,মনজুরুল আলম পন্নাসহ সকল আটক সাংবাদিককে মুক্তি দিতে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au