ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদে সনাতন ধর্মের একমাত্র হিন্দু নারী এমপি শ্রীমতী কণিকা বিশ্বাস বুধবার (২৯ অক্টোবর) কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর মৃত্যু সংবাদে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাঙালি, বিশেষত মতুয়া সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কণিকা বিশ্বাস স্কুল ও কলেজ জীবনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন লড়াকু ছাত্রনেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছয়দফা আন্দোলনের সময় ধর্ম নিরপেক্ষতার দাবি সংযুক্তির বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দ জাতীয় গণমুক্তি দল গড়ে তোলেন। কণিকা বিশ্বাস ওই দলে যোগ দেন এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র হয়ে ওঠেন।
কণিকা বিশ্বাসের পরিবারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজনৈতিক ও পারিবারিক দিক থেকেই তিনি দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন।
১৯৭৩ সালে মনোনীত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি দেশের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত প্রিয় হিসেবে তিনি তাঁর রাজনীতিক জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও শীর্ষ নেতাদের সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ভারতে চলে যান।
ভারতেও কণিকা বিশ্বাস সমাজের বঞ্চিত ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ চালিয়ে যান। তিনি বিশেষভাবে মতুয়া সম্প্রদায় এবং দুর্যোগ ও নিপীড়িত বাঙালি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তিনি যে কোনো জনকল্যাণমূলক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন, যা প্রেরণার উৎস হিসেবে গণ্য করা হতো।
কণিকা বিশ্বাস প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও জননেতা বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখতে সমর্থ হন। তাঁর জীবন মূলত সমাজের বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে উৎসর্গিত ছিল। তিনি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তার মৃত্যু সংবাদে ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালি সমাজে, বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ে, গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কণিকা বিশ্বাস শুধু একটি সাংসদ ছিলেন না; তিনি সমাজের দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের জন্য এক শক্তিশালী প্রতীক ছিলেন।
তিনি এমন একজন নেত্রী ছিলেন, যিনি ব্যক্তিগত বিপদ ও নির্বাসনের মধ্যেও জনগণের কল্যাণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করতে কখনও থেমে থাকেননি।
শ্রীমতী কণিকা বিশ্বাসের জীবন ও কাজ আজও প্রেরণা যোগাচ্ছে নতুন প্রজন্মের জননেতা ও সমাজকর্মীদের জন্য।
শ্রীমতী কণিকা বিশ্বাস,জন্মস্থান: ওড়াকান্দি, গোপালগঞ্জ,মৃত্যু: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, কলকাতা, ভারত,রাজনৈতিক দল: জাতীয় গণমুক্তি দল, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ,বিশেষ অবদান: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হিন্দু নারী সংসদ সদস্য, জনকল্যাণমূলক কর্মী, শিক্ষার প্রসারক, বঞ্চিত সমাজের অধিকার রক্ষাকারী
শ্রীমতী কণিকা বিশ্বাসের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর জীবন ও কাজ সারা দেশ ও বঙ্গবাসীর জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au