ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস তার ভাই অ্যান্ড্রুর ‘রাজপুত্র’ উপাধি বাতিল করেছেন। একইসঙ্গে তাকে উইন্ডসরের রাজকীয় বাসভবন ‘রয়েল লজ’ ছাড়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্কের জেরে রাজা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানায়, এখন থেকে রাজা চার্লসের ভাই ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর’ নামে পরিচিত হবেন। চলতি মাসের শুরুতে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনার পর অ্যান্ড্রু রাজকীয় দায়িত্ব ও কিছু উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। তবে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের স্মৃতিকথা প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
জিউফ্রে আত্মজীবনীতে দাবি করেন, কিশোরী বয়সে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার একাধিকবার যৌন সম্পর্ক হয়েছিল। যদিও অ্যান্ড্রু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০২২ সালে তিনি জিউফ্রের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সব উপাধি, সম্মাননা ও রাজকীয় মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পাশাপাশি রয়েল লজের ইজারাও বাতিল করা হয়েছে।
অ্যান্ড্রুকে এখন স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের একটি ছোট ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকতে হবে, যার ব্যয় বহন করবেন রাজা চার্লস নিজেই। প্রাসাদ জানায়, অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে, তাই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ে প্রিন্সেস ইউজিনি ও প্রিন্সেস বিআট্রিস রাজকুমারীর উপাধি ধরে রাখবেন। যদিও অ্যান্ড্রু এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অষ্টম স্থানে আছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনও রয়েল লজ ছেড়ে নিজের বাসস্থানে চলে যাবেন। অ্যান্ড্রু স্বেচ্ছায় ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধি ত্যাগ করায় সারা এখন আবার নিজের পারিবারিক নাম ব্যবহার করছেন।
অ্যান্ড্রুর রাজকীয় মর্যাদা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন রাজপরিবার একাধিক কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক চাপের মুখে। সম্প্রতি প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা গেছে, অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার দাবি করলেও পরবর্তীতেও তাদের যোগাযোগ ছিল।
অ্যান্ড্রুর বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আর রাজকীয় দায়িত্বে না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন জীবন বজায় রাখছেন, তা নিয়েও সমালোচনা চলছে।
২০০৪ সাল থেকে তিনি রয়েল লজে থাকছেন, যা ২০০৩ সালে ৭৫ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি নামমাত্র ভাড়া দিয়েছিলেন, যা আগাম পরিশোধ করে ৮০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থে দায়মুক্তি পেয়েছিলেন।
২০০৬ সালে তিনি এপস্টেইনকে তার মেয়ে বিআট্রিসের জন্মদিনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যদিও তার দুই মাস আগেই এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
রাজপ্রাসাদের কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যান্ড্রুর দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির ইতি টানতে রাজা চার্লস এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au