ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- ১০০ কোটি টাকার অনুদানে যাত্রা শুরু করেছিল জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠার সময়ই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এই ফাউন্ডেশন থেকেই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিচালিত হবে। এক বছরের মাথায় সেই ফাউন্ডেশন এখন টাকার অভাবে টালমাটাল। কর্মীদের বেতন–ভাতা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, থমকে গেছে কার্যক্রমও।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল আকবর জানিয়েছেন, পরিচালন ব্যয় বা আবর্তক খাতে আর কোনো অর্থ নেই। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো জবাব আসেনি। এতে ৪৪ জন কর্মী নভেম্বর থেকে বেতন পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শাহবাগে ২ হাজার ৪০০ বর্গফুটের অফিসের মাসিক ভাড়া দেড় লাখ টাকা। বেতন, অফিস ভাড়া, আসবাব কেনা, জ্বালানি, গাড়ি মেরামত, ভ্রমণ ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ পুরো আবর্তক খাতেই এখন ঘাটতি। কামাল আকবর বলেন, “সরকারের অন্যান্য দাতব্য খাত থেকে বরাদ্দের আবেদন করেছি, এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।”
টাকার উৎস ও বর্তমান অবস্থা
২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ফাউন্ডেশনকে ১০০ কোটি টাকা অনুদান দেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ কোটি টাকা এবং এক নারী অনুদানদাতা আরও ৫ কোটি টাকা দেন। ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সংগৃহীত দানসহ ফাউন্ডেশনের মোট তহবিল দাঁড়ায় ১১৯ কোটি টাকা।
তবে এখন তহবিলে আছে মাত্র প্রায় ৬ কোটি টাকা। এই টাকা বেতন খাতে ব্যবহার করা যাবে না, কারণ তা নির্দিষ্ট দাতব্য খাতের জন্য সংরক্ষিত।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বেতন বাবদ ১ কোটি, ভাতা বাবদ ২৫ লাখ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২০ লাখ এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ১ কোটি ৫৫ লাখসহ মোট ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল ফাউন্ডেশন। এই টাকায় এতদিনের ব্যয় চলেছে, কিন্তু অক্টোবরের পর থেকে সেই তহবিলও শেষ হয়ে গেছে।
শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তা
সরকারি তালিকায় শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। ফাউন্ডেশন জানায়, এখন পর্যন্ত শহীদ ৮২৯ জনের পরিবার ও আহত ৬ হাজার ৮৬৫ জনকে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো ৮ হাজার ৪৪৬ জন সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক শহীদের পরিবারকে পাঁচ লাখ এবং আহতদের সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এখন ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে দেওয়া সহায়তার পরিমাণ ১১৩ কোটি ৯৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। স্মৃতিস্তম্ভের আগে তাদের পাশে দাঁড়ানো দরকার।”
স্মৃতিস্তম্ভে জোর, সহায়তায় শৈথিল্য
শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, ফাউন্ডেশন অর্থসংকটে থাকলেও সরকার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ব্যস্ত। জুলাই শহীদদের স্মরণে দেশের ৮৬৪ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জে প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ৪৬ কোটি টাকায় আরও একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ চলছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, ওসমানী উদ্যানে আগের সরকারের নেওয়া প্রকল্পের সঙ্গে নতুন স্থাপনা যুক্ত করা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। টিআইবি-ও ১১১ কোটি টাকার সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এই ব্যয়ের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
শহীদ পরিবারের সদস্য ও ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবরিনা আফরোজ বলেন, “যাঁরা শহীদদের সম্মান দিতে জানেন, তাঁরা স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়াই দেবেন। আহতরা এখনো চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ঘুরছেন। তাদের আগে দেখা দরকার।”
ফাউন্ডেশন ও অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতা
এ বছর ২৩ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ চালু হয়েছে। এই অধিদপ্তরও আহত ও শহীদ পরিবারের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কাজ করছে। ফলে একই ধরনের কাজ দুই প্রতিষ্ঠানে চলায় সমন্বয়ের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের সিইও কামাল আকবর স্বীকার করেছেন, “মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কিছু জটিলতা হচ্ছে।” তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মশিউর রহমান বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট কার্যবণ্টন অনুযায়ী কাজ করছি, ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।”
মীর মাহবুবুর রহমান মনে করেন, “সরকারি সংস্থায় কাজ হয় ধীরগতিতে, কিন্তু ফাউন্ডেশন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আহত ও শহীদ পরিবারদের কথা বলার জায়গা শুধু এই ফাউন্ডেশনই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী বৈঠকে অর্থসংকটের সমাধান হবে।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ
অর্থসংকটের কারণে সহায়তা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা। এ বছরের ৮ জুলাই ক্ষুব্ধ কয়েকজন ফাউন্ডেশনের অফিস ভাঙচুর করেন। তার আগে ১৩ মে তারা মানববন্ধন করে সিইও ও কোষাধ্যক্ষের অপসারণ দাবি জানান।
একসময় শহীদ মীর মাহমুদুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ছিলেন ফাউন্ডেশনের সিইও। বর্তমানে তিনি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন। বোর্ডে আরও আছেন সরকারের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, শারমীন এস মুরশিদ ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
এখন প্রশ্ন একটাই: আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের সহায়তা যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে স্মৃতিস্তম্ভে কোটি কোটি টাকা ব্যয় কতটা ন্যায্য? শহীদের পরিবার বলছে, স্মৃতি রক্ষার আগে জীবিতদের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত শ্রদ্ধা।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au