স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- নাশকতামূলক ঘটনা ও অঘটন প্রতিরোধে আগামী কিছুদিনের জন্য রাজধানীর রাস্তার পাশে জ্বালানি তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, আসন্ন ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘শক্ত অবস্থানে’ রয়েছে এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে রাস্তার পাশে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “রাস্তার পাশে তেল বিক্রি কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। এই তেল দিয়ে অনেক সময় নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গোয়েন্দাদের কোনো ব্যর্থতা নেই। তিনি জানান, বড় ধরনের কোনো মিছিল হচ্ছে না, তবে বাসে আগুন দেওয়া ও কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এসব ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, মেট্রোরেল ও রেলওয়ে স্টেশনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার দিন। এই উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “১৩ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো আশঙ্কা নেই।”
তিনি জনগণের প্রতি অনুরোধ করেন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানাতে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
এছাড়া, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সন্ত্রাসীরা যেন সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি জামিন প্রদানকারীদেরও অনুরোধ জানান, যাতে তারা সন্ত্রাসীদের জন্য সহজে জামিন না দেন।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানও বেগবান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিছু অস্ত্র এখনও বাইরে রয়েছে এবং এগুলো দ্রুত উদ্ধার করার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রস্তুতিকে সন্তোষজনক উল্লেখ করে বাহিনীর মোতায়েনের সংখ্যা দেন। তিনি জানান, আনসার সদস্য সাড়ে ৫ লাখ, পুলিশ দেড় লাখ, সেনাসদস্য ১ লাখ, বিজিবি ৩৫ হাজার এবং কোস্টগার্ডের ৪ হাজারের মতো সদস্য নির্বাচনের দিনে মোতায়েন থাকবে।
মিয়ানমার থেকে মাদক আসা কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, “গ্রামগঞ্জে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক নির্মূলে সবার দায়িত্ব আছে।”
এ ছাড়া রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার দুটি ঘটনার বিষয়েও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি সন্ত্রাসী বাহিনীর নিজেদের মধ্যে সংঘটিত ঘটনা। জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো সন্ত্রাসী বিদেশ থেকে দেশের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।