মেলবোর্ন, ২৫ নভেম্বর- তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপাঞ্চলে জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলছে, এই পদক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়াবে এবং পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করবে।
জাপান সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের ইয়োনাগুনি ও অন্যান্য দ্বীপে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা সামনে এনেছে। টোকিওর যুক্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এ পরিকল্পনাকে চীন সরাসরি উসকানি হিসেবে দেখছে।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপান ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অকারণে জটিল করছে। চীনের বক্তব্য, এ ধরনের মোতায়েন শুধুমাত্র চীনের নিরাপত্তা পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি ব্যাহত করবে।
চীন আরও বলেছে, জাপানের উচিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সামরিক সম্প্রসারণ নয়, বরং সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখা। টোকিওর পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছে চীন।
জাপান অবশ্য বলছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে এবং কারও বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করছে না। দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়েছে এবং নতুন সক্ষমতা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘপাল্লার মিসাইল ব্যবস্থা।
তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েন বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপানের অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন পরিকল্পনা টোকিওর ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসকে স্পষ্ট করছে, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলটির কৌশলগত পরিবেশকে আরও জটিল করতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স