বাংলাদেশ

ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তক ড. ইউনূস নন, কিছু প্রমাণ

  • 3:01 pm - November 28, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৫০ বার
ড. মুহাম্মদ ইউনুস। ছবি : সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৮ নভেম্বর- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে মাইক্রোক্রেডিট তথা ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। নোবেল থেকে শুরু করে তার বেশিরভাগ পুরস্কারও এসেছে এই ক্ষুদ্র ঋণের থিউরি আবিষ্কার এবং সেটি বিশ্বব্যাপী ফেরি করার জন্য।

যদি বলি ড. মুহাম্মদ ইউনুস আসলে ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তক না, এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে যখন এই কার্যক্রম শুরু হয়; তখন সে সরাসরি এটাতে সম্পৃক্তই ছিলেন না, তাহলে কি বিশ্বাস করবেন? আচ্ছা আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নাই। স্বয়ং ড. ইউনূস স্বাক্ষরিত কাগজ যদি এটা বলে তাহলে তো বিশ্বাস করবেন, নাকি?

ক্ষুদ্র ঋণ ও গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর ইতিহাস জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রায় ৫০ বছর পূর্বে। ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে RURAL ECONOMIC PROGRAM (REP) নামের একটি গবেষণা প্রোগ্রামের উদ্যোগ নেয়া হয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশন এই প্রকল্পে দুই বছরের জন্য (নভেম্বর ১৯৭৬-নভেম্বর ১৯৭৮) ১ লাখ ডলার অনুদান প্রদান করে। ড. ইউনূস তখন অর্থনীতি বিভাগের প্রধান থাকলেও ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অনুদানের জন্য মূলত কাজ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম।

এই গবেষণা প্রোগ্রামের Action Research Project হিসেবে জোবরা গ্রামে একটি নবযুগ তেভাগা খামার প্রকল্প তৈরি করে একটি গভীর নলকূপকে গ্রামবাসীদের যৌথভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অপরটি Action Research Project হিসেবে জোবরা গ্রামীণ দরিদ্র ভূমিহীন নারীদের ঋণ প্রদান এবং তাদের ব্যংকিং সেবা প্রদানের সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ করা হয়। এতে দায়িত্ব পালন করেন স্বপন আদনান, নাসিরুদ্দীন ও এইচ আই লতিফী নামের তিনজন।

জোবরা গ্রামের এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে সফলতা লাভ করলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করে। ১৯৭৮ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্ণর অসিত কুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের RURAL ECONOMIC PROGRAM এর আওতায় গ্রামীন ভূমিহীনদের ঋণ প্রদান সংক্রান্ত Action Research Project এর আলোকে গ্রামীণ ব্যাংক প্রজেক্ট নামের একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের Special Agricultural Credit Program থেকে এই প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ভাবে কৃষি ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংককে দায়িত্ব দেয়া হয় এবং এলাকা হিসেবে বাছাই করা হয় টাঙ্গাইল জেলা এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারি থানাকে।

যেহেতু ড. ইউনূস বিভাগীয় প্রধান হিসেবে RURAL ECONOMIC PROGRAM (REP) এর দায়িত্ব ছিল অতএব তাকে গ্রামীণ প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে যোগ দিতে অনুরোধ জানান হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ নং ধারা অনুযায়ী একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথম পর্যায়ে এই ব্যাংকের ৬০% মালিকানা সরকারের এবং ৪০% এর মালিকানা ঋণ গ্রহীতাদের থাকলেও বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন করে ২৫% মালিকানা সরকারের এবং ৭৫% মালিকানা ব্যাংকের গ্রাহকদের দেয়া হয়। শুরুতে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ১৯৯০ সালের ২৯ আগস্ট ড. ইউনূসকে মাসিক ৬ হাজার টাকা বেতনে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এবার আসা যাক প্রমাণের বিষয়ে। ১৯৭৯ সালের ১৫ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বাক্ষরিত RURAL ECONOMIC PROGRAM (REP) এর ফেজ টু এর প্রজেক্ট প্রপোজালটি খেয়াল করেন, যেখানে বলা হয়েছে এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নেয়া একটি প্রোগ্রাম (ছবি-১)। ২ নং ছবিতে দেখা যাচ্ছে তেভাগা খামার প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে। ২ ও ৩ নং ছবিতে উল্লেখ করা হয়েছে ভূমিহীনদের জন্য নেয়া ক্ষুদ্র ঋণের ধারণাটি বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে এবং কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

৪ নং ছবিতে দেখা যাচ্ছে ড. ইউনুস এই প্রোগামে নলকূপ ব্যবস্থপনা সংক্রান্ত গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন। ৫ নং ছবিতে দেখা যাচ্ছে স্বপন আহমেদ, নাসিরুদ্দিন এবং এইচআই লতিফী ক্ষুদ্র ঋণ এবং ভূমিহীনদের ব্যাংকিং কার্যক্রম সংক্রান্ত গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন। ৬ নং ছবিতে দেখা যাচ্ছে ফোর্ড ফাউন্ডেশন ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আজিজ খানকে অনুদান ছাড় সংক্রান্ত বিষয়ে অবহিত করছে। এটা প্রমাণ করে ড. ইউনূস কোন পর্যায়েই ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অনুদানের সাথে জড়িত ছিলেন না।

এই হলো ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা এবং গ্রামীণ ব্যাংক স্থাপনের প্রকৃত ইতিহাস। আমার কথা না, ডঃ ইউনুসের নিজের স্বাক্ষরিত ডকুমেন্ট থেকেই আপনাদের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরলাম। ড. ইউনূস কেবলমাত্র এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রবর্তন এবং গ্রামীণ ব্যাংক স্থাপনের ক্রেডিট ডাকাতিই করেনি বরং এমডি হবার পর গ্রামীণ ব্যাংককে নিজের কুক্ষিগত করে সেখানে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং গ্রামীণ ব্যাংককে নিজের ব্যাক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত করেন। এটিকে ব্যবহার করেই বিদেশী প্রভুদের সমর্থনে বাগিয়ে নেন নোবেল পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার।

ড. ইউনুসের মতো এমন বিশ্ববাটপার ও প্রতারক শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বেই খুব কম জন্ম নিয়েছে। প্রমাণসহ দিলাম। বাকিটা আপনাদের বিবেচনা।

লেখক: আমিনুল হক পলাশ, কলামনিস্ট ও মানবাধিকার কর্মি।

ডিসক্লেইমার:
ওটিএন বাংলার মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখা, ছবি, কার্টুন, স্কেচ, অডিও বা ভিডিও- একান্তই লেখকের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। প্রকাশিত মতামত ওটিএন বাংলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

 

এই শাখার আরও খবর

চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…

‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…

আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রতিবেশী মীর হোসেন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন…

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au