ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এই নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তীব্র, কারণ নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং দলটির নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনের বাইরে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভোটের মাঠে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হবে সম্পূর্ণভাবে কারচুপিপূর্ণ। শনিবার রাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এটি এমন একটি নির্বাচন, যেখানে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলসহ তৃতীয় বৃহত্তম দলকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির মতো দলগুলোকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
নির্বাচনের পেছনে বিদেশি প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জয়। তাঁর ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, ইউনূস ফ্রান্সে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন এবং আজারবাইজানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের মেয়ের ঢাকা সফর এবং ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল প্রসঙ্গে জয় বলেন, দলটির সমর্থকেরা ইতোমধ্যে ছোট ছোট প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেছেন এবং সামনে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিকভাবেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। এ বিষয়ে জয় বলেন, নির্বাচন হলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করাই স্বাভাবিক।
সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। প্রশ্ন করা হলে, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শত্রু কে, জামায়াত না বিএনপি, জবাবে জয় বলেন, জামায়াতই আওয়ামী লীগের প্রধান শত্রু। তাঁর ভাষায়, বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, শত্রু নয়। জামায়াত স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকার করে না এবং দেশটিকে একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
নির্বাচন ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মন্তব্যে একদিকে যেমন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের এই অবস্থান।
সুত্রঃ ক্রেডিড দ্য সান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au