মেলবোর্ন, ১৮ ডিসেম্বর- চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা তাইওয়ানের কাছে রেকর্ড ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এই ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন, যা তাইওয়ানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে এটি প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত। এমন সময়ে এই অনুমোদন এলো, যখন বেইজিং তাইওয়ান ঘিরে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও চাপ জোরদার করছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজে মোট আট ধরনের সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমার্স রকেট সিস্টেম, হাউইটজার কামান, জ্যাভলিন ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, আত্মঘাতী ড্রোন এবং বিভিন্ন সহায়ক যন্ত্রাংশ। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, আত্মরক্ষার সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও প্রয়োজনীয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নোটিফিকেশনের পর্যায়ে রয়েছে। কংগ্রেস চাইলে এই বিক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত বা সংশোধন করতে পারে। তবে তাইওয়ানকে অস্ত্র সহায়তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের মধ্যেই ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
মার্কিন চাপ ও চীনের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে তাইওয়ান তার সেনাবাহিনীকে আরও যুদ্ধোপযোগী করে তুলছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে তারা তুলনামূলকভাবে ছোট, মোবাইল এবং কম খরচের অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে তাইওয়ান আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।
তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এক বিবৃতিতে বলেন, দেশটি প্রতিরক্ষা সংস্কার অব্যাহত রাখবে, সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং আত্মরক্ষার দৃঢ় সংকল্প বজায় রাখবে। শক্তির মাধ্যমে শান্তি রক্ষা করাই তাইওয়ানের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে গত মাসে তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি লাই চিং-তে ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণার কথা জানান। সে সময় তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্র বিক্রি তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স