আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৮ জানুয়ারি- দীর্ঘ সময়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পর ইরানে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, শনিবার থেকে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকদিনের টানা বিভ্রাটের পর সরকারিভাবে ইন্টারনেট পুনরায় চালুর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সেবার উন্নতি খুবই সীমিত। বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, শনিবার সকালে ইরানে ইন্টারনেট ট্রাফিকে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরুর ৩৬ ঘণ্টা পরও পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি হয়নি। বরং ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বড় ব্যাঘাতের পর ইন্টারনেট সংযোগে মাত্র অল্প পরিমাণে গতি ফিরেছে। বর্তমানে দেশটিতে সামগ্রিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় প্রায় ২ শতাংশে নেমে আছে। পুরোপুরি সেবা পুনরুদ্ধারের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ে। অনলাইন লেনদেন, যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। কবে নাগাদ ইন্টারনেট পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। তাদের অভিযোগ ছিল লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং ক্রমাগত অবনতিশীল অর্থনীতি। পরে এই আন্দোলন তেহরান ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিক্ষোভ দমনে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার। একই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সরকারি তথ্য না থাকলেও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ইতোমধ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
পরিস্থিতি এখনও থমথমে। আংশিক ইন্টারনেট চালু হলেও ইরানে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au