পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আকাশে একদিনে ৬১ হেলিকপ্টার!
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল-পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের আকাশপথে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রচারণায় নেতাদের দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক হেলিকপ্টার উড়ছে, যার…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রীশ্রী পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে মন্দিরের পাঁচটি কক্ষের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা ১৪টি প্রতিমা, দুটি দানবাক্স এবং বিপুল পরিমাণ পূজার সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার ভোরে মন্দিরের পূজারি আদি শিষ্য মঙ্গল আরতির জন্য ঘুম থেকে উঠে প্রধান ফটকে এসে কক্ষগুলোর তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাসকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে সকালে নাসিরনগর থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, চুরি হওয়া ১৪টি প্রতিমার মধ্যে ছয়টি পিতলের এবং আটটি পাথরের তৈরি। পাশাপাশি একটি রুপার পাদুকা, বাঁশি, কাঁসার বাসন ও কলস, হারমোনিয়াম, বালতি, পিতলের আসন ও গ্লাস, বিশুদ্ধ পানির মোটর এবং দুটি দানবাক্সে থাকা নগদ অর্থও চুরি হয়েছে। এ ছাড়া এক পূজারির কক্ষ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।
ঘটনার পর মন্দিরের পূজারি লিপি রানী গোপ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনার শিকার হওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আরেক পূজারি শিল্পা রানী মালাকার জানান, তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁর কক্ষের তালা ভেঙে নগদ টাকা এবং হাত, গলা ও কানের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে চোরেরা। স্বামী ও সন্তান না থাকায় প্রভুর সেবাই তাঁর একমাত্র অবলম্বন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাস বলেন, প্রতিমা চুরির পাশাপাশি নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় পূজার সামগ্রী লুট হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগে রয়েছে। নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দানবাক্সে থাকা টাকাই ছিল চোরদের মূল লক্ষ্য। মন্দির এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ঘটনার সময় মাত্র একটি ক্যামেরা সচল ছিল, যেখানে গায়ে কম্বল বা কাপড় মোড়ানো অবস্থায় একজন চোরকে দেখা গেছে।
পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, গ্রিল কেটে মন্দিরে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং চোরদের শনাক্ত ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au