আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি- অস্ট্রেলিয়াগামী প্রায় পাঁচ টন কোকেন বহনকারী একটি জাহাজ আটক করে বিপুল পরিমাণ মাদক সাগরে ফেলে দিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। তবে জাহাজটি ও এর নাবিকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কে তদন্ত করবে এবং কার এখতিয়ারেই বা বিচার হবে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা।
ফরাসি পলিনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট মোয়েতাই ব্রথারসন জানিয়েছেন, জাহাজটির উৎস দেশ বা গন্তব্য দেশের দায়িত্ব এ বিষয়ে তদন্ত করে অভিযোগ গঠন করা। তাঁর মতে, ফরাসি পলিনেশিয়ার কারাগারগুলো ইতোমধ্যে ভিড়ে ঠাসা থাকায় নতুন করে এমন মামলার ভার নেওয়া সম্ভব নয়।
দুই সপ্তাহ আগে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘এমভি রেইডার’ নামের জাহাজটি আটক করে। জাহাজটিতে হন্ডুরাস ও ইকুয়েডরের নাগরিকসহ মোট ১১ জন নাবিক ছিলেন। তল্লাশিতে প্রায় পাঁচ টন কোকেন পাওয়া যায়, যার অস্ট্রেলিয়ায় আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফরাসি পলিনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেছেন, জব্দ করা সব কোকেন সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সব মাল সাগরে ফেলে দিলে মাদক কারবারিদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।”
মোয়েতাই ব্রথারসন বলেন, “ইতোমধ্যে মাদক বহনকারী কয়েকটি জাহাজের নাবিক আমাদের কারাগারে রয়েছে। সব মাদক পাচারকারীকে আটক রাখার দায়িত্ব আমাদের নয়।”
এই কারণ দেখিয়ে এমভি রেইডার ও এর নাবিকদের কোনো বাধা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে হয়তো এই নাবিকদের আদালতে দাঁড়াতে হবে, তবে সেটা ফরাসি পলিনেশিয়ায় নয়। “এটি দায়িত্বের প্রশ্ন নয়, বরং কে মামলা চালাতে চায়, সেটাই প্রশ্ন।”
মুক্তি পাওয়ার পর এমভি রেইডার ইঞ্জিন বিকলের কথা জানিয়ে বিপদের সংকেত পাঠায় এবং কুক দ্বীপপুঞ্জের রারোটোঙ্গা জলসীমায় প্রবেশ করে। পরে জাহাজটি আভাতিউ বন্দরে নোঙর করে।
কুক দ্বীপপুঞ্জের কাস্টমস বিভাগ জানায়, ২৪ জানুয়ারি জাহাজটি পৌঁছানোর পর সীমান্ত সংস্থাগুলো তল্লাশি চালায়, তবে সেখানে কিছুই পাওয়া যায়নি। নাবিক ও ক্যাপ্টেনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি ফরাসি পলিনেশিয়ার একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে আটক হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের আওতাভুক্ত। এ কারণে তদন্ত ও বিচার কোন দেশ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পুলিশ ও কাস্টমস সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় চলছে বলে জানান ব্রথারসন। তবে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
গত দুই সপ্তাহে ফরাসি কর্তৃপক্ষ অন্তত দুটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী জাহাজ আটক করেও ছেড়ে দিয়েছে। বুধবার ফরাসি নৌবাহিনী জানায়, ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছে আরও একটি জাহাজ থেকে ৪ দশমিক ২৫ টন কোকেন জব্দ করা হয়েছে। জাহাজটি মধ্য আমেরিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকাগামী ছিল বলে ধারণা করা হয়।
এ ক্ষেত্রেও কোকেন সাগরে ফেলে দেওয়া হয় এবং জাহাজ ও নাবিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় আদালতের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে—এই যুক্তিতে প্রসিকিউটররা মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
নিউজিল্যান্ড সরকারের ট্রান্সন্যাশনাল ও সংঘবদ্ধ অপরাধবিষয়ক উপদেষ্টা দলের চেয়ারম্যান স্টিভ সাইমন বলেন, প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মাদক প্রবাহ এখন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, আগে মাদক এশিয়া হয়ে আসত, এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে নতুন একটি রুট তৈরি হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে গত এক বছরে প্রতি সপ্তাহে যত মেথামফেটামিন জব্দ হয়েছে, ২০১৪ সালে পুরো বছরে তার সমান পরিমাণ জব্দ হয়েছিল।
স্টিভ সাইমনের মতে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মাদকের উচ্চ চাহিদা ও দামই এই পাচারকে উসকে দিচ্ছে। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো পাচারের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হচ্ছে।
ফরাসি পলিনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, এর প্রভাব স্থানীয় সমাজেও স্পষ্ট। “মানুষ মাদকে আসক্ত হলে উৎপাদনশীলতা কমে যায়, পরিবার থেকে চুরি বাড়ে, অপরাধ বাড়ে।”
তিনি জানান, ফরাসি পলিনেশিয়ায় মাদক ধূমপান করা হলেও ফিজিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যার ফলে এইচআইভি ও সংক্রামক রোগও বাড়ছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au