বিশ্ব

বিবিসির প্রতিবেদন

এপস্টেইন নথি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘ধামাচাপা’র অভিযোগ হিলারি ক্লিনটনের

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ফাইলগুলো প্রকাশ করুন—ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হচ্ছে”; হোয়াইট হাউসের পাল্টা দাবি, ভুক্তভোগীদের পক্ষে তারাই সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে

  • 7:35 pm - February 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২৪ বার
বার্লিনে ওয়ার্ল্ড ফোরামে অংশ নিয়ে বিবিসিকে কথা বলেন হিলারি ক্লিনটন। ছবি: Du må oppgi CC BY SA

মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি: সিরিয়াল যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘ধামাচাপা’ করার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। বার্লিনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফোরামে অংশ নিতে গিয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ফাইলগুলো প্রকাশ করুন। বিষয়টি নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গড়িমসি করা হচ্ছে।”

এর জবাবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, নথি প্রকাশের মাধ্যমে তারা ভুক্তভোগীদের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি কাজ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টেইন–সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করে। তবে ডিওজের উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, শিশু নির্যাতনের গ্রাফিক বর্ণনা এবং চলমান তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন উপাদান থাকার কারণে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়নি।

বিবিসির প্রশ্নে হিলারি ক্লিনটন বলেন, এপস্টেইন–সংশ্লিষ্ট যাদের ডাকা হবে, তাদের সবারই কংগ্রেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত। নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধের প্রমাণ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি; তিনিও বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কংগ্রেস কমিটির অ্যান্ড্রুকে তলব করার আইনি ক্ষমতা নেই, তবে ক্লিনটন দম্পতিকে হাজিরার জন্য চাপ দেওয়া হলে তারা গত মাসে সম্মতি দেন।

তালিকা অনুযায়ী বিল ক্লিনটন ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং হিলারি ক্লিনটন তার আগের দিন কংগ্রেস কমিটির সামনে হাজির হবেন। শুরুতে হাজিরা না দেওয়ায় কংগ্রেস অবমাননার ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে দু’জনই সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ায় সেটি স্থগিত করা হয়। ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর এই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন।

হিলারি ক্লিনটন আবারও শুনানি বন্ধ কক্ষে নয়, প্রকাশ্যে করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা হাজির হব, তবে জনসমক্ষে হলে ভালো হয়।” রিপাবলিকান কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার দেরির অভিযোগ তুললেও হিলারি বলেন, “আমি চাই বিষয়টি ন্যায্য হোক—সবার সঙ্গে একই আচরণ করা হোক। আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা বারবার পূর্ণাঙ্গ প্রকাশের দাবি জানিয়েছি। সূর্যের আলোই সবচেয়ে বড় জীবাণুনাশক।”

হিলারির দাবি, তাকে ও তার স্বামীকে সামনে এনে ট্রাম্প প্রশাসন আসল ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতে চাইছে। তিনি বলেন, “দেখুন, চকচকে বস্তু দেখানো হচ্ছে—ক্লিনটনদের নিয়ে মাতামাতি, এমনকি আমাকে নিয়ে—যিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে কখনো দেখা করেননি।” তবে তিনি স্বীকার করেন, এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তিনি কয়েকবার দেখা করেছিলেন। বিল ক্লিনটন এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, তবে দুই দশক আগে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছেন। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরা ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি; দু’জনই তার অপরাধ সম্পর্কে তখন কোনো জ্ঞান ছিল না বলে দাবি করেছেন।

কংগ্রেসের নির্দেশে এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্তের নথি প্রকাশে একটি আইন পাস হয়। ডিওজে বলছে, ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আইনপ্রণেতাদের একাংশের মতে, এটি যথেষ্ট নয়। কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি ডিওজের অভ্যন্তরীণ স্মারক—এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত–সংক্রান্ত নথিও প্রকাশের আহ্বান জানান।

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। এর আগে অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে দণ্ডিত হয়ে তিনি যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীর পরিবারের পক্ষ থেকে ওভারসাইট কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার চাপ বাড়ছে। অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করে ২০২২ সালে ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছান; সেখানে দায় স্বীকার ছিল না। জিউফ্রে ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করেন।

এপস্টেইন নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও রয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, বহু আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। বিবিসিকে তিনি জানান, তার লুকানোর কিছু নেই। এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ প্রমাণিত। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা প্রমাণ খুঁজতে গিয়েছিল, পেয়েছে উল্টোটা।”

ট্রাম্প–বিরোধী অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিওজে আগেই জানিয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এফবিআইয়ে জমা পড়া কিছু নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত দাবি ছিল। সংস্থাটির ভাষ্য, অভিযোগগুলো অসত্য এবং কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা থাকলে সেগুলো আগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাজার হাজার পৃষ্ঠা নথি প্রকাশ, হাউস ওভারসাইট কমিটির সমন্বয় অনুরোধে সহযোগিতা এবং এপস্টেইনের ডেমোক্র্যাট বন্ধুদের বিষয়ে অতিরিক্ত তদন্ত আহ্বান—এসবের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ভুক্তভোগীদের পক্ষে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কাজ করেছে।

এই শাখার আরও খবর

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়, ‘১০০০ শতাংশ’ কৃতিত্ব ক্রিকেটারদের দিলেন তামিম

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও নির্বাচকদের পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম…

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫৩, নিরাপদে সরানো হলো ৫ হাজার মানুষ

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশক ও ভূমিধসের কারণে…

সিলেটে দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যা: বাবুলের ৪ দিনের রিমান্ড

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার…

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালত নেবে। এটি কোনো রাজনৈতিক…

বাংলাদেশকে কীভাবে দেখছেন ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষ

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের মধ্যে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখার হার তুলনামূলক বেশি…

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দাম কমায় ‘নেগেটিভ ইকুইটি’ নিয়ে উদ্বেগ, কতটা বড় ঝুঁকি?

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোতে বাড়ির দাম দ্রুত কমে যাওয়ার পূর্বাভাসের পর ‘নেগেটিভ ইকুইটি’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন,…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au