মানসিক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটালেন মানসিক রোগী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যামডেনে সংঘটিত প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি দুর্ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে একটি মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্যামডেনে একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয় কথিতভাবে চুরি করা একটি লাল রঙের সেডান। এতে শিক্ষক ও দাতব্য সংস্থার পরিচালক ৬০ বছর বয়সী লি কাসুসেল্লি এবং তার সঙ্গে থাকা ৮৪ বছর বয়সী মৌরিন ক্রসল্যান্ড নিহত হন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানায়, হার্স্টভিলের একটি পেট্রোল স্টেশন থেকে গাড়িটি চুরি হওয়ার পর পুলিশ তা ধাওয়া করে। পরে বেভারলি হিলস এলাকায় গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করা হলে ধাওয়া অভিযান শুরু হয়। তবে দুর্ঘটনার প্রায় ৪০ মিনিট আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় পরই মর্মান্তিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাম্বারল্যান্ড হাসপাতাল থেকে ৩১ বছর বয়সী অভিযুক্ত চালক অনিচ্ছাকৃতভাবে আটক অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালটি পরিচালনা করে ওয়েস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্ট।
অভিযোগ রয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি এক নার্সকে হুমকি দিয়ে একটি প্রবেশাধিকার কার্ড নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। ওয়েস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টের এক মুখপাত্র জানান, ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে জানানো হয়। তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তীতে নিউ সাউথ ওয়েলস হেলথের কোনো প্রতিষ্ঠানে তার ফেরত যাওয়ার তথ্যও নেই।
তিনি বলেন, রোগী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে একই সপ্তাহে আরেকটি পৃথক ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ২৫ বছর বয়সী সেতেফানো মুনিয়াই লেয়ায়েতোয়া নামের এক ব্যক্তি, যিনি মেরিল্যান্ডসে তিনজনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং যার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন, তিনিও ঘটনার কয়েক দিন আগে কাম্বারল্যান্ড হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
ওয়েস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্ট জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি তাকে কাম্বারল্যান্ড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য ওয়েস্টমিড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তরের সময় তিনি পালিয়ে যান। পুলিশকে জানানো হয় এবং তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাকে তখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ দুটি ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত বছর এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, কাম্বারল্যান্ড হাসপাতাল তীব্র জনবল সংকটে ভুগছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, পুরো ব্যবস্থাই ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে।
সে সময় কাম্বারল্যান্ড ও ওয়েস্টমিড হাসপাতালের দুটি মানসিক স্বাস্থ্য ওয়ার্ড এবং একটি মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন কেন্দ্র নীরবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাতের বেলায় পুরো কাম্বারল্যান্ড স্থাপনা দেখভালের জন্য মাত্র একজন প্রশিক্ষণরত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দায়িত্বে ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক দুটি পলায়ন ও পরবর্তী সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা, তদারকি ও জনবল কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ