লেফটেন্যান্ট গভর্নর রিচার্ড হ্যারিস (ডানে) সরকারি ভবনে রিটগুলি জারি করেছিলেন। ছবিঃ ফেসবুক
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় স্টেট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। গভর্নমেন্ট হাউসে লেফটেন্যান্ট গভর্নর রিচার্ড হ্যারিস নির্বাচনী রিট জারি করার মধ্য দিয়ে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ২৮ দিনের প্রচারকাল। আগামী ২১ মার্চ শনিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রিট জারির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ৫৫তম পার্লামেন্টের কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং রাজ্য সরকার কেয়ারটেকার বা অন্তর্বর্তী অবস্থায় গেছে। এ সময় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চললেও নতুন সরকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বা বড় চুক্তি করা থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে।
প্রচারের প্রথম দিনেই দুই প্রধান দল নিজেদের অগ্রাধিকার ইস্যু সামনে আনে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি জোর দিচ্ছে আবাসন খাতে, আর লিবারেল পার্টি গুরুত্ব দিচ্ছে আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবায়।
প্রিমিয়ার পিটার মালিনাউস্কাস, যিনি আগের নির্বাচনে হাসপাতালের ‘র্যাম্পিং সংকট’ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয় পেয়েছিলেন, প্রচারের প্রথম দিন গভর্নমেন্ট হাউস থেকে ট্রামে করে যান সাবেক ওয়েস্ট এন্ড ব্রুয়ারি এলাকার প্রকল্পস্থলে। সেখানে তিনি জানান, কেয়ারটেকার পর্ব শুরুর আগে কমার্শিয়াল অ্যান্ড জেনারেল নামের একটি সম্পত্তি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে সাউথওয়ার্ক এলাকায় ১ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের মাস্টার ডেভেলপার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার শুধু বিচ্ছিন্নভাবে কিছু আবাসন নয়, পুরো রাজ্যজুড়ে পরিকল্পিতভাবে আবাসন উন্নয়ন করতে চায়। শহরের ভেতরে বহুতল উন্নয়ন এবং শহরতলিতে সম্প্রসারণ—দুই দিকেই কাজ হবে। লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত সময়ে আরও বেশি তরুণের জন্য বাসস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
প্রচারের ২৮ দিন নিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের রায়ই শেষ কথা- এ কারণে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও নিজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
অন্যদিকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল নেতা অ্যাশটন হার্ন সকালে গুলওয়া এলাকায় যান এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। তিনি পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রান্সপোর্ট স্কিম পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। এই স্কিমের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের রোগীরা শহরে চিকিৎসা নিতে গেলে যাতায়াত ব্যয়ের ভর্তুকি পান।
হার্ন বলেন, বর্তমানে আবাসন ভাতা যেখানে প্রতি রাতে ৪৪ ডলার, তা বাড়িয়ে ১১০ ডলার করা হবে এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা সমন্বয় করা হবে। তার ভাষায়, এতে আঞ্চলিক মানুষের আর্থিক চাপ কমবে এবং চিকিৎসা নিতে গিয়ে যে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা লাঘব হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক দুইটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, লিবারেল পার্টি সমর্থনে ওয়ান নেশনের পেছনে চলে গেছে। একটি জরিপে লেবার পেয়েছে ৪৪ শতাংশ সমর্থন, ওয়ান নেশন ২৪ শতাংশ এবং লিবারেল ১৪ শতাংশ। আরেকটি জরিপে লেবার ৩৭ শতাংশ, ওয়ান নেশন ২২ শতাংশ এবং লিবারেল ২০ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। উভয় জরিপেই নমুনা ছিল এক হাজারের বেশি ভোটার এবং ত্রুটির সীমা প্রায় ৩ শতাংশ।
ওয়ান নেশনের প্রধান প্রার্থী কোরি বার্নার্ডি বলেন, তারা শুধু বিরোধী কণ্ঠস্বর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেনি, তবে ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট। তার দাবি, সরকার ও বিরোধী, দুই পক্ষ নিয়েই জনঅসন্তোষ রয়েছে, যা জরিপে প্রতিফলিত হচ্ছে।
যদিও প্রিমিয়ার ও বিরোধীদলীয় নেতা দুজনই বলেছেন, তারা জরিপের ফল নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস পার্টিও দুই জরিপে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। অ্যাডিলেডের নরউডে এক অনুষ্ঠানে দলটির নেতা রবার্ট সিমস বলেন, তাদের দল শক্ত ফলাফলের পথে রয়েছে। ওয়ান নেশন সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, তারা বেশি প্রচার পাচ্ছে, কিন্তু সুসংহত নীতির ঘাটতি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় এবারের নির্বাচন শুধু লেবার ও লিবারেলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ওয়ান নেশন ও গ্রিনসের বাড়তি উপস্থিতি ভোটের সমীকরণ জটিল করে তুলেছে। আগামী চার সপ্তাহে আবাসন, স্বাস্থ্য ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, এই ইস্যুগুলোই নির্বাচনী বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার আভাস মিলছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ