টেইফ কোর্সে স্বীকৃতি সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্কট বোম্যান পদত্যাগ করেছেন। Image: CDU
মেলবোর্ন ২৪ ফেব্রুয়ারি: টেইফ (TAFE) কোর্সের স্বীকৃতি সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির জেরে চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের (CDU) উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক স্কট বোম্যান পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, কিছু টেইফ শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় সব “সম্পর্কিত দক্ষতা ইউনিট” (associated units of competency) সম্পন্ন না করেই ভুলবশত যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (ABC) প্রথমে জানায়, অন্তত ৪০ জন কার্পেন্ট্রি অ্যাপ্রেন্টিসকে পুনরায় পড়াশোনায় ফিরতে হবে। পরে সংখ্যাটি বেড়ে ২৯৬-এ দাঁড়ায়। এদের মধ্যে সার্টিফিকেট টু ইন কনস্ট্রাকশন পাথওয়েজেস কোর্সের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অধ্যাপক বোম্যান ও এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর সরে দাঁড়ানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সবচেয়ে ভালো হবে। এতে করে শিক্ষার্থী, কর্মী এবং নর্দান টেরিটরির কমিউনিটির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন করা সহজ হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করতেই এখন সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সিডিইউর চ্যান্সেলর ট্রেভর রাইলি এও কেসি অধ্যাপক বোম্যানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক ক্ষেত্রেই শক্ত ভিত্তি পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই পদত্যাগের পেছনের পরিস্থিতিকে ‘কঠিন ও বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেন। টেইফ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, এই অনিশ্চয়তার সময় তাদের যে উদ্বেগ ও বিঘ্নের মুখে পড়তে হয়েছে, তার জন্য তারা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
এই কেলেঙ্কারির পর সিডিইউতে এটি দ্বিতীয় শীর্ষ পর্যায়ের পদত্যাগ। এর আগে গত সপ্তাহে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও টেইফ প্রধান নির্বাহী মাইকেল হ্যামিল্টনও পদত্যাগ করেন।
এদিকে, আরালুয়েনের স্বতন্ত্র এমএলএ রবিন ল্যাম্বলি অধ্যাপক বোম্যানের বিদায় নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আশা করি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। নর্দান টেরিটরির করদাতাদের যেন কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দিতে না হয়।” তাঁর মতে, শীর্ষ নির্বাহীদের বিদায়ের ক্ষেত্রে প্রায়ই করদাতাদের ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ পড়ে।
গত বছরের নভেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল, অধ্যাপক বোম্যানের মেয়াদ ২০২৬ সালের এপ্রিল শেষ হলেও তাঁকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আরও পাঁচ বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ফিওনা কুলসন জানান, বোম্যান আর নতুন চুক্তিতে যাচ্ছেন না এবং অবশিষ্ট মেয়াদে তিনি ছুটিতে থাকবেন।
ফিওনা কুলসন আপাতত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এপ্রিল থেকে তিনি অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন উপাচার্য নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।