সিরিয়ার আল-রোজ শিবিরে আটকে থাকা অস্ট্রেলীয় শিশু , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-রোজ শিবিরে থাকা আইএস–সংশ্লিষ্ট পরিবারের অস্ট্রেলীয় শিশুরা দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে শিবির ছাড়ার ব্যর্থ চেষ্টার পর তারা আবারও অনিশ্চয়তার জীবনে ফিরে এসেছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকার শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও পরিবারগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে না।
ম্লান আলোয় ঢাকা একটি তাঁবুর ভেতর কয়েকজন কিশোরী রঙিন শিশুতোষ বই নিয়ে বসে আছে। তাদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ঘরে ঘরে পরিচিত বই ‘দ্য ভেরি হাংরি ক্যাটারপিলার’। উত্তেজিত কণ্ঠে তারা বইয়ের গল্প আলোচনা করছে। তবে কথার ফাঁকেই ফুটে ওঠে তাদের দুঃখ, অনিশ্চয়তা আর ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা।
এক কিশোরী জানায়, তারা অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু শিবির ছাড়ার সাম্প্রতিক চেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে। গত সোমবার ২৩ জন শিশু ও নারী আল-রোজ শিবির ছেড়ে দামেস্কের পথে রওনা হলেও প্রায় ৫০ কিলোমিটার যাওয়ার পর সিরীয় সরকারি বাহিনী তাদের আটকে দেয়।
শিশুদের কেউ ছোট বয়সে সিরিয়ায় আনা হয়েছিল, কেউ আবার শিবিরেই জন্মেছে। যারা শিবিরে জন্মেছে, তাদের কাছে আল-রোজই একমাত্র পরিচিত পৃথিবী। শিবিরের বাইরে সংক্ষিপ্ত সেই যাত্রায় তারা প্রথমবারের মতো গাছপালা, বাড়িঘর আর খোলা পরিবেশ দেখেছে। এক ছয় বছর বয়সী মেয়ে জানায়, সে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আইসক্রিম খেতে এবং খেলনা কিনতে চায়।
শিশুদের মায়েরা ২০১৪ সালে ঘোষিত তথাকথিত ইসলামিক স্টেট খিলাফতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে আইএসের পতনের পর তারা বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে আল-রোজ শিবির কুর্দি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শিবির পরিচালক হাকমিয়েহ ইব্রাহিম বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পরিবারগুলো এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। শিবির ছাড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা গভীরভাবে হতাশ। তার ভাষায়, এসব শিশু তাদের বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তের শিকার। তারা যে পরিবেশে বড় হচ্ছে, তার প্রভাব তাদের ওপর পড়ছে, অথচ পরিস্থিতির জন্য তারা দায়ী নয়।
এই ১১ নারীর বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, তারা ফেরার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে না, কেবল আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলে প্রয়োজনীয় নথি দেবে। একজন নারীর বিরুদ্ধে সাময়িক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নারীদের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা ওই এলাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা নিজের দায়িত্বে তা করেছে। তবে শিশুদের প্রতি সহানুভূতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। উপপ্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লেসও জানান, সরকার এ গোষ্ঠীর কাউকে দেশে ফেরাতে সহায়তা করছে না।
এদিকে দক্ষিণের আল-হোল শিবির, যেখানে আগে কিছু অস্ট্রেলীয় নারী ও শিশু ছিল, এখন সিরীয় সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সিরীয় সরকার সেখানে মানবিক পরিস্থিতিকে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে শিবিরটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে এবং বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। শিবিরের বেড়ার ভেতর তাদের দিন কাটছে বই, খেলাধুলা আর ঘরে ফেরার স্বপ্নে।
সুত্রঃ এবিসি