আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছে। দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংক খাতে কঠোর নীতি প্রয়োগ, সুদহার বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ এবং কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত যেমন আলোচনায় ছিল, তেমনি ব্যক্তিগত সম্পদ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুবাইয়ের আল জাদ্দাফ এলাকায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন দিরহাম মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে, যার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। অভিযোগে বলা হয়, সম্পত্তিটি গভর্নরের মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরের নামে কেনা হলেও দলিলে গভর্নরের নামও রয়েছে। এ নিয়ে অর্থপাচারের অভিযোগও তোলা হয়, যদিও অভিযোগকারীরা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমে বলেন, দুবাইয়ের ওই সম্পত্তির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই এবং অভিযোগটি ভিত্তিহীন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৪ মাসে তিনি ১৪ বার বিদেশ সফর করেন এবং মোট প্রায় ১০০ দিন দেশের বাইরে ছিলেন বলে জানা গেছে। আগের গভর্নরদের তুলনায় এ সংখ্যা বেশি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
অর্থনৈতিক নীতির দিক থেকেও তাঁর সময়কাল ছিল আলোচনাপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর ফলে ব্যাংকঋণের সুদহার ১২ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছে যায়। শিল্প ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ সুদের চাপে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দেয়। এ সময় খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। একাধিক ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হলেও সেটি এখনো কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা পায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতর থেকেও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। কর্মকর্তাদের একাংশ দাবি করেছেন, ফ্রিজকৃত ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য নিয়মবহির্ভূতভাবে গভর্নর কার্যালয়ে চাওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এ ছাড়া সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির মধ্যে বিলাসবহুল বহুমুখী যানবাহন কেনার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যের একটি গাড়ি কেনা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদিত মান তালিকায় ছিল না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধানে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন এবং খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেন। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপের প্রত্যাশিত ফল দৃশ্যমান হয়নি এবং আর্থিক খাতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
সব অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করে বিদায় নিয়েছেন আহসান এইচ মনসুর। তাঁর নেওয়া নীতি ও সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলবে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au