ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নতুন সর্বাধিনায়ক আহমাদ ওয়াহিদি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আগের সর্বাধিনায়কের মৃত্যুর পর ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নতুন সর্বাধিনায়ক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করে ইরান। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটির অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, বরং দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ও অর্জন রক্ষা করা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে এই বাহিনী গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে আসছে।
নতুন সর্বাধিনায়ক আহমাদ ওয়াহিদি এই বাহিনীর গঠনকাল থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের এলিট ব্রিগেড কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কুদস ফোর্স মূলত দেশের বাইরে সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিচিত একটি বিশেষ ইউনিট।
সামরিক জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আহমাদ ওয়াহিদি। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের শাসনামলে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারের সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
নতুন সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে ইরানের সামরিক নেতৃত্বে তাঁর প্রভাব আরও দৃঢ় হলো বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রেভল্যুশনারি গার্ডের নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা