আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো বলছে, দলটি দেশে ফিরলে শাস্তি, আটক বা নিপীড়নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়াকে অনেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে খেলোয়াড়দের দিয়ে এমন চুক্তিপত্রে সই করানো হয়েছিল যাতে তারা দলত্যাগ বা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারেন; না হলে তাদের এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ইরানে একজনের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো পরিবারকে শাস্তি দেওয়ার নজির আগেও দেখা গেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত ক্যাম্পেইনার জাকি হায়দারি এবিসি স্পোর্টকে বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। তার মতে, তারা দেশে ফিরলে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের আটক ও বিচারের মুখে ফেলতে পারে, আবার অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেলে তাদের পরিবার-পরিজনও প্রতিশোধের শিকার হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গাননি। পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা সংগীত গেয়েছেন ও স্যালুটও দিয়েছেন, যা অনেকেই তেহরানের চাপ বা নির্দেশনার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির এক কট্টরপন্থী উপস্থাপক তাদের “যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক” বলে আখ্যা দেন, যা শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের উদ্দেশে একটি পিটিশনও শুরু হয়েছে। এতে দাবি জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটার আগে যেন দলের কোনো সদস্যকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে বাধ্য করা না হয় এবং যারা সুরক্ষা চাইবেন, তারা যেন ইরানি শাসকগোষ্ঠীর প্রভাবমুক্তভাবে স্বাধীন আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা পান। শুক্রবার রাতে চালু হওয়া এই পিটিশনে প্রকাশের সময় পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে।
মানবাধিকারকর্মী ড. মিনু ঘামারি অভিযোগ করেছেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাইরে থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দলের সরকারি প্রতিনিধিদলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থাকতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন, গোল্ড কোস্টে দলের হোটেলে নিরাপত্তাকর্মীরা অতিথি ও দর্শনার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে, খেলোয়াড়দের যোগাযোগ নজরদারিতে রাখা হয়েছে, এমনকি হোটেলের ভেতরেও তাদের চলাফেরায় কড়া নজরদারি রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে খেলোয়াড়দের দিয়ে এমন চুক্তিপত্রে সই করানো হয়েছিল যাতে তারা দলত্যাগ বা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারেন; না হলে তাদের এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ইরানে একজনের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো পরিবারকে শাস্তি দেওয়ার নজির আগেও দেখা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং এক বিবৃতিতে বলেছেন, অস্ট্রেলীয় সরকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ইরানের জনগণের পাশে আছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানে নারীরা দমন-পীড়নের শিকার এবং মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা ভয়ের বাইরে থাকা উচিত। অন্যদিকে বিরোধী জোটের শ্যাডো অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ডেভ শর্মা বলেছেন, ইরানি নারী দলের সদস্যদের আশ্রয় প্রার্থনার যে কোনো আবেদন অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার আলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
ফুটবলারদের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রো এশিয়া/ওশেনিয়ার সভাপতি বো বুশ বলেছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ও এএফসিকে সম্ভাব্য মানবাধিকার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার মতে, টুর্নামেন্টের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবাধিকার ঝুঁকি মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। এখন জরুরি হলো, খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ও ইরানি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এবং সম্ভব হলে তাদের কিছু সময় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ তৈরি করা।
সব শঙ্কা ও চাপের মধ্যেও ইরানের নারী দলকে মাঠে খেলতে হচ্ছে। ফিলিপাইনের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে কোচ মারজিয়েহ জাফারি বলেছেন, খেলোয়াড়রা নিজেদের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে। তবু তারা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে চায়, কারণ তাদের ভালো পারফরম্যান্স ইরানের মানুষকে কিছুটা হলেও আনন্দ দিতে পারে।
-ABC
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au