বিশ্ব

পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন অটিজম আক্রান্ত যুবক, সেই পুলিশের গুলিতেই নিহত হলেন

নিহত অ্যালেক্স ল্যামোরি যুক্তরাষ্ট্রের অটিজম কমিউনিটিতে একজন পরিচিত মুখ

  • 4:09 pm - March 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২ বার
ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে এক মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশি গুলিতে ২৫ বছর বয়সী এক অটিজম আক্রান্ত যুবক নিহত হয়েছেন। অ্যালেক্স ল্যামোরি নামের ওই যুবক মানসিক সংকটের মুহূর্তে নিজেই পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়ে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন।

ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, অ্যালেক্স সম্প্রতি মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়াতে ‘প্যাটুসেন্ট কমন্স’ নামক একটি বিশেষ আবাসন প্রকল্পে থাকতে শুরু করেছিলেন, যা মূলত অটিজম ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন মানুষের জন্য তৈরি। সেখানে ওঠার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটে।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যালেক্সের একটি ‘সেফটি প্ল্যান’ বা নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল। সেই অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটলে পুলিশের সাহায্য চাওয়ার কথা ছিল তার। তার মা-ও আগে থেকে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে অ্যালেক্স অটিস্টিক এবং নিজের ক্ষতি করার ঝুঁকিতে আছেন।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সকালে অ্যালেক্স তার মাকে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা পাঠান। যেখানে লেখা ছিল, ‘জীবন খুব ছোট সবার ওপর রেগে থাকার জন্য, তাই আমি সবার সাথে ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করি।’ এর কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি ফোন করে মাকে জানান যে তিনি সংকটে আছেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশের সাহায্য চেয়েছেন।

তবে পুলিশ বলেছে, মধ্যরাতের পর তারা যখন অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে পৌঁছায়, শুরুতে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভবন থেকে বের হওয়ার সময় পার্কিং লটে অ্যালেক্সকে একটি ছুরি হাতে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। পুলিশ বারবার তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা শোনেননি বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর তিন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সাথে জড়িত তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে বডি ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ করা হতে পারে।

অ্যালেক্স ল্যামোরি অটিজম কমিউনিটিতে একজন পরিচিত মুখ এবং কর্মী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন পডকাস্টে কথা বলতেন এবং ‘অটিজম অ্যান্ড গ্রিফ প্রজেক্ট’-এর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন। ১৩ বছর বয়সে তার অটিজম ধরা পড়ে।

তিনি বিশ্বাস করতেন, অটিজম তাকে অনন্য করেছে এবং এর মাধ্যমেই তিনি অনেক প্রিয় মানুষের সাথে পরিচিত হতে পেরেছেন।

অ্যালেক্সের পরিবার তাকে একজন দয়ালু, প্রেমময় এবং প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা ক্ষোভের সাথে জানান, অ্যালেক্স নিজেকে সুস্থ ও স্থিতিশীল রাখার প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন এবং নিয়ম মেনেই তিনি সাহায্যের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অথচ সেই সাহায্য চাইতে গিয়েই তাকে প্রাণ দিতে হলো।

এই শাখার আরও খবর

‘যুদ্ধবন্দি’ দেশের জ্বালানি নিরাপদ রাখতে হরমুজে রণতরী পাঠাচ্ছে ভারত

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেলবাহী জাহাজ আটকে যাওয়ায় ভারতীয় নৌসেনা হরমুজ প্রণালীতে রণতরী পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। দেশটির তেলের নিরাপদ সরবরাহ…

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে এমপিদের ফেরানোর আলোচনা

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আবারও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে…

কাতার থেকে সরতে পারে ফিনালিসিমা- ইঙ্গিত স্পেন ফুটবল প্রধানের

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের লড়াই ফিনালিসিমাকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের…

নেদারল্যান্ডসের ভিসা প্রক্রিয়ায় বাড়তি যাচাই, শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- নেদারল্যান্ডসে পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সংখ্যা সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে এসব আবেদনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়ায় ঢাকার নেদারল্যান্ডস…

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিউক্যাসেলের সাথে ড্র করেছে বার্সেলোনা

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাউন্ড অব সিক্সটিনের প্রথম লেগে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফিরেছে বার্সেলোনা। ইনজুরি সময়ে পাওয়া…

থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামে সরকারি কর্মীদের হোম অফিস

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির দামে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মীদের ঘরে বসে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। জ্বালানি সাশ্রয় এবং…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au