স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল, পরীক্ষার ভিত্তিতে ভর্তি চালুর সিদ্ধান্ত
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- দেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক…
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি যৌথ উদ্যোগে নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই আহ্বানের পরপরই জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোববার ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যেসব দেশ বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে, তাদেরই হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেওয়া উচিত। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ এই পথ দিয়ে জ্বালানি পায়, তাদেরই এগিয়ে এসে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা উচিত। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সাতটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যদিও সেসব দেশের নাম তিনি প্রকাশ করেননি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশ এই উদ্যোগে অংশ নেবে।
তবে সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করে বলেন, তার দেশ আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। জাপানের সংবিধানে যুদ্ধ পরিত্যাগের নীতি থাকায় বিদেশে সামরিক তৎপরতা পরিচালনায় নানা আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জাপান এখনো কোনো ধরনের এসকর্ট জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশটি কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সেখানে নৌবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথরিন কিং দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে তারা অবগত থাকলেও তাদের কাছে এমন কোনো অনুরোধ আসেনি এবং এ ধরনের কোনো উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়া অংশ নিচ্ছে না।
এদিকে ট্রাম্প চীনের ওপরও চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষে বেইজিং সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের আগে তিনি আশা করছেন চীন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখবে।
ট্রাম্প বলেন, চীন তাদের তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পায়। তাই প্রণালিটি খোলা রাখতে তাদেরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, চীন যদি এ বিষয়ে সহযোগিতা না করে তবে তার নির্ধারিত বেইজিং সফর পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
হরমুজ ইস্যুতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে বললেন ট্রাম্প, সাড়া দিল না জাপান ও অস্ট্রেলিয়া
ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করে, তবে জোটটির ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ হতে পারে।
সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান একটি ছোট নৌ মিশন শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সেই মিশনের ভূমিকা সম্প্রসারণের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। একই বিষয়ে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়াও ট্রাম্পের আহ্বান সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে দুবাই, দোহা ও আবুধাবির আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ বা সীমিত হওয়ায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং বহু যাত্রী বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছেন।
জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভিয়েতনামের কর্তৃপক্ষ দেশটির বিমান শিল্পকে সম্ভাব্য ফ্লাইট কমানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে। কারণ ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে চীন ও থাইল্যান্ড জেট জ্বালানি রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।
এদিকে ড্রোন হামলার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত করলে আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলেও এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থার নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিল বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকির একটি বড় উদাহরণ। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেক দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং এর ফলে খরচও বাড়ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও কিছু ইরানি জাহাজ এবং কয়েকটি বিদেশি জাহাজ সীমিতভাবে পারাপার করতে পেরেছে।
এদিকে তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে এবং এরপর জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
তবে ইরান বলছে তারা এখনও স্থিতিশীল ও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তাদের দেশ কখনও যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেনি এবং আলোচনার জন্যও আবেদন জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যত দিন লাগে তত দিন ইরান আত্মরক্ষা চালিয়ে যাবে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au