আগামী পাঁচ বছরে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন অস্ট্রেলিয়ানরা
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি ধারাবাহিক একাধিক সংকটের…
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- ঈদের আনন্দ শেষ না হতেই দেশের তিন জেলায় ভয়াবহ সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কুমিল্লা, ফেনী ও হবিগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রী নিহত হন।
প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে। তাদের অধিকাংশের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে আরও চারজন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি বাসের সংঘর্ষ হলে পিকআপটি উল্টে পাশের খাদে পড়ে যায়।
স্থানীয়রা প্রথমে উল্টে থাকা পিকআপটি দেখতে পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে উদ্ধারকারীরা পিকআপের নিচ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতরা সবাই পিকআপের যাত্রী ছিলেন। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, ফেনীতেও সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামপুর এলাকায় রোববার ভোরে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সড়কের একটি অংশে কাজ চলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় পেছন থেকে একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। পরে দুই চালকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সড়কে যানজট তৈরি হয়। এর মধ্যেই দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।
এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক মোটরসাইকেল আরোহী, একটি বাসের সুপারভাইজার এবং এক যাত্রী নিহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
একই দিনে তিন জেলায় এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে সামনে আসছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au