আশ্বাস বাস্তবায়নে ব্যর্থ ইউনূস সরকার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মলিন ঈদ
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের আনন্দের মধ্যেও কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঈদের আবহ ছিল বিষণ্ন। বছরের পর বছর ধরে…
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত এই জরিপে দেখা যায়, দেশে স্যানিটেশনের আওতা বাড়লেও নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানীয় জলের আওতায় রয়েছে মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে স্যানিটেশন সুবিধা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ শতাংশে। ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও নিরাপদ পানির বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘পানি ও লিঙ্গ সমতা’। এর মাধ্যমে পানি, স্যানিটেশন ও লিঙ্গসমতার পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে এবং বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের পানি ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এ প্রতিপাদ্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পানির উৎসগুলোর একটি বড় অংশই দূষিত হয়ে পড়েছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত পানির ৮০ শতাংশের বেশি নমুনায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। এছাড়া ২০২৪ সালে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে দেশের প্রায় ১০ দশমিক ২ শতাংশ পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এ সংকটকে তীব্রতর করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে এবং তা ভূগর্ভস্থ পানির স্তরেও প্রবেশ করছে। ফলে মিঠাপানির উৎস কমে যাচ্ছে। চিংড়ি চাষ, লবণ উৎপাদনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও এই লবণাক্ততা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। পাশাপাশি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক এলাকায় নিরাপদ পানির উৎস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর। অনিরাপদ পানি ব্যবহারের কারণে তারা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, স্কুলে উপস্থিতি কমছে এবং পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে লবণাক্ত পানি পান করার ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ছে, যা বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।
নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। গত বছর হাইকোর্ট এক রায়ে নিরাপদ পানিকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে বিনামূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক বছরের সময় বেঁধে দেয়। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের মধ্যে সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নদী, খাল, বিলসহ সব ধরনের জলাশয় সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইউনিসেফ বলছে, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান জরুরি। প্রতিটি শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au