ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কলকাতার চেতলায় অহীন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত একটি রুদ্ধদ্বার কর্মিসভায় তিনি ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হলেই যেন কেউ দায়িত্ব ফেলে বাড়ি না চলে যান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোট গণনার সময় ‘লোডশেডিং’ ঘটানো হতে পারে, যার সুযোগ নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে স্ট্রংরুমে নজরদারি জোরদার রাখারও নির্দেশ দেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে নিজের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে মমতা অভিযোগ করেন, ওই সময় গণনার মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়ে কারচুপির মাধ্যমে ফল প্রভাবিত করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিধানসভায় ফেরেন, তবুও নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত।
সভায় ভবানীপুরের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ভবানীপুর শুধু একটি কেন্দ্র নয়, এটি তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের বাসস্থান পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মমতা, জানান তার মা সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেননি, তাই তিনি পুরোনো ঠিকানাতেই থেকে গেছেন।
এ সময় বিজেপির সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ দল ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনের রাজনীতি করছে। তিনি দাবি করেন, একটি মন্দির নির্মাণ করলেও দেশের রাষ্ট্রপতিকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যা আদিবাসী পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শামিল। পাশাপাশি তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচনের সময় অর্থ বিতরণের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বিজেপি।
সভায় তিনি শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অভিযোগ করেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে তার দলের দু’জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ পড়েছে বা যাদের বিষয়ে জটিলতা রয়েছে, তাদের আইনি সহায়তা দেবে দল।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন রাজ্য সরকারের ৫০ জন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে, যা প্রশাসনিক কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, মমতার এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলটির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটি পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে করা মন্তব্য। তার দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনে জয় ছিল জনসমর্থনের প্রতিফলন, কোনো কারচুপির ফল নয়। তিনি আরও বলেন, আদালত ও জনতার রায় দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের অভিযোগ টেকেনি।
উল্লেখ্য, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনে এই কেন্দ্রে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং আরও প্রায় ১৪ হাজার ভোটারের নাম যাচাইাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au