আগামী পাঁচ বছরে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন অস্ট্রেলিয়ানরা
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি ধারাবাহিক একাধিক সংকটের…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামো স্থাপনাগুলোকে ‘চিরতরে ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ। রোববার মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
গালিবাফ তার বার্তায় স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের আঘাত এলে তার জবাব শুধু সীমিত থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পাল্টা আঘাত এমন মাত্রায় হবে, যার ক্ষতি কোনোভাবেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। তার ভাষায়, এটি হবে দীর্ঘমেয়াদি ও অপরিবর্তনীয় ধ্বংসযজ্ঞ।
ইরানের স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তার মতে, যদি এ ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার চক্র শুরু হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চমাত্রায় থেকে যেতে পারে এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে।
এই হুঁশিয়ারির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের সর্বশেষ বক্তব্যকে সেই হুমকির সরাসরি জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নাতানজসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলজুড়ে একটি সর্বাত্মক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ইতোমধ্যেই বেড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হচ্ছে, জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হুমকি ও পাল্টা হুমকির এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও অনিশ্চিত করে তুলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au