আগামী পাঁচ বছরে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন অস্ট্রেলিয়ানরা
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি ধারাবাহিক একাধিক সংকটের…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকির জবাবে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ’ বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের পারমাণবিক বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত তা আর খোলা হবে না। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ইরানি সামরিক বাহিনী আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমনকি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানিকেও ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত না করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরাসরি হামলা চালাবে এবং ধ্বংস করে দেবে। তার এই বক্তব্যের পরপরই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
পরবর্তীতে ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের অবকাঠামোতে ‘একটি বোমা’ পড়লেও হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকেই এই প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার সেখানে চলাচল করতে পারছে না।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্তত ২২টি দেশ যৌথভাবে জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ দেশ সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত জলপথকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা যুদ্ধকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au