অস্ট্রেলিয়ার কাছে আর কত দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে?
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই অনিশ্চিত দিকে এগোতে থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন এলাকায়…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন–বাস সংঘর্ষে নিহত হয়েছে নয় বছরের শিশু মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা। প্রতি ঈদে যে শিশু বাড়িতে এসে আনন্দে মাতিয়ে রাখত সবাইকে, এবার সে ফিরল নিথর দেহ হয়ে। তার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।
রোববার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাইয়্যেদার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। বাড়ির উঠানজুড়ে তখন শুধু কান্না আর আহাজারি। যে শিশুর হাসিতে মুখর থাকত বাড়ি, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্বজনরা জানান, সাইয়্যেদার বাবা সিরাজ উদদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও সন্তানদের নিয়ে সেখানেই বসবাস তাদের। প্রতি ঈদে ছুটি পেলেই তারা গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে আসতেন। এবারও নতুন ঘরে ওঠার আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ফরিদপুর থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে করে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা হন সিরাজ উদদৌলা। রাত প্রায় তিনটার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী ট্রেন বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাইয়্যেদাসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সিরাজ উদদৌলা, তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং বড় মেয়ে তাসনুবা তাবাসসুম আফনান (২২)। বর্তমানে তারা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বজনরা জানিয়েছেন, আফনানের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি আইসিইউতে রয়েছেন।
পরিবারের জন্য এটি নতুন কোনো শোক নয়। দুই বছর আগে অসুস্থতায় সিরাজ উদদৌলার একমাত্র ছেলেও মারা যায়। সেই ক্ষত না শুকাতেই এবার ছোট মেয়েকেও হারালেন তিনি। একের পর এক এই শোকে পরিবারটি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
স্বজন আবি আবদুল্লাহ জানান, আফনানের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। রাজিয়া সুলতানার শরীরের বিভিন্ন হাড় ভেঙে গেছে এবং সিরাজ উদদৌলা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। সবাই চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো সাইয়্যেদার জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়নি।
জানা গেছে, নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রাম ছেড়ে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে নতুন করে ঘর নির্মাণ করছিলেন সিরাজ উদদৌলা। সেই নির্মাণাধীন ঘরেই এবারের ঈদে পরিবারসহ ওঠার কথা ছিল তার।
কিন্তু সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। যে সাইয়্যেদা বাড়িতে এলেই হাসি-আনন্দে ভরিয়ে রাখত চারপাশ, এবার সে ফিরল নিথর হয়ে। তার শূন্যতা আর কোনো দিন পূরণ হবে না বলে জানালেন স্বজনরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au