ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাম্প্রতিক সময়ে…
মেলবোর্ন, ২৪ মার্চ- অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ‘জুলাইয়ের বিষয়গুলো’ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সরকার গ্রহণ করবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যেগুলো জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো বহাল রাখার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাইযোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে, সেটি আমরা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন স্থাপনা, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের যে নামকরণ করা হয়েছিল, সেগুলোও পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
সরকারের এই অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গৃহীত নানা সিদ্ধান্তের মধ্যে দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বিশেষভাবে আলোচিত। এই অধ্যাদেশ বহাল থাকলে জুলাই-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও মতামত প্রকাশ পাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামের সিনিয়র নায়েব আমির মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সংবিধান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি কোনো অধ্যাদেশে তারা সমর্থন বা সুপারিশ দেবে না। তিনি বলেন, ‘যে অধ্যাদেশগুলো জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে বা সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে, সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হবে।’
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনই ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জয়নাল আবদিন। কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বহুমাত্রিক মতামত প্রতিফলিত হয়।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল এই কমিটির প্রথম সভা। সভায় অধ্যাদেশগুলোর প্রাথমিক পর্যালোচনা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হবে, কোনটি জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় এবং কোনটি সংশোধন বা বাতিল করা দরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জুলাই-সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে সমন্বয় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au