ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাম্প্রতিক সময়ে…
মেলবোর্ন, ২৪ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে চার বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে অরবিন্দ অজয় সিং (৪৩) নামের এক চাইল্ডকেয়ার কর্মীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ চার বছরের আইনি লড়াই এবং এক আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পর অবশেষে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
গত জুলাই মাসে অরবিন্দ অজয় সিংকে “অবৈধ অনাগরিক” হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিজিতে অকালে নির্বাসিত করা হয়েছিল। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তখনো তার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগের বিচার চলছিল।
গত সেপ্টেম্বরে ‘এ কারেন্ট অ্যাফেয়ার’ নামের একটি সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান বিষয়টি প্রথম সামনে আনে। এরপরই সিংকে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া গতি পায়। মারুচিডোর ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিং স্বেচ্ছায় ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হতে রাজি হন। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সিং সানশাইন কোস্টের বার্নসাইডে অবস্থিত অ্যাপলবেরিস চাইল্ডকেয়ার সেন্টারে কাজ করতেন। শিশুদের কাছে তিনি “মি. এজ” (Mr AJ) নামে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি অনুযায়ী, তিনি প্রায়ই জলদস্যু সেজে শিশুদের বিনোদন দিতেন।
অভিযোগের সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল মাত্র চার বছর। শিশুটি প্রথমে তার বাবার কাছে, এরপর বাবা-মা উভয়ের কাছে এবং সবশেষে কুইন্সল্যান্ড পুলিশের রেকর্ডকৃত সাক্ষাৎকারে এই অপরাধের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।
পুলিশকে দেওয়া বর্ণনায় শিশুটি বলে, “যতবার আমার মন খারাপ থাকে, সে আমাকে জড়িয়ে ধরে। মাঝে মাঝে আমি যখন তাকে জড়িয়ে ধরি, সে আমার প্যান্টি একদিকে টেনে তার আঙুল ঢুকিয়ে দেয়।”
বর্তমানে আট বছর বয়সী ওই শিশুটি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে মারুচিডোর ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারকের সামনে একটি টেডি বিয়ার জড়িয়ে ধরে সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্য দেয়। প্রসিকিউটর অ্যালেক্স স্টার্ক জুরির কাছে তুলে ধরেন যে, শিশুটি তার সাথে হওয়া অপরাধের বিষয়ে কতটা স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছে।
অন্যদিকে, সিং নিজেকে “নির্দোষ” দাবি করলেও আইনি অধিকার খাটিয়ে তিনি কখনো কাঠগড়ায় দাঁড়াননি বা পুলিশকে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। অভিযোগ প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত ডিএনএ (DNA) প্রমাণ না থাকায়, সিংয়ের ডিফেন্স ব্যারিস্টার ল্যাচলান ইগোয়া-ম্যাকিউন শিশুটির সাক্ষ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরির চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, “সাক্ষীর বয়স চার বা পাঁচ বছর হওয়ার অর্থ এই নয় যে তার দেওয়া দুর্বল বা অস্পষ্ট প্রমাণের পক্ষে সাফাই গাওয়া যাবে।”
শিশুটির মা ব্যারিস্টারের এই বক্তব্যকে “চরম জঘন্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, “তার (মেয়েটির) উঠে দাঁড়িয়ে কথা বলার মতো সাহস ছিল, কিন্তু তিনি (ব্যারিস্টার) শুধু তাকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।”
দীর্ঘ তিন ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি তাদের রায় ঘোষণা করে। সিংকে ধর্ষণের মূল অভিযোগে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হলেও, “যত্নে থাকা শিশুর সাথে অশালীন আচরণের” মতো অপেক্ষাকৃত লঘু অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারক গ্লেন ক্যাশ এই অপরাধকে “নির্লজ্জ” এবং “বিশ্বাসের চরম অবমাননা” বলে মন্তব্য করেন।
অভিযোগ লঘু হওয়ায় তাকে মাত্র ২০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ১০ মাস সাজা খাটার পরই স্থগিত করা হবে। এই রায়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে শিশুটির বাবা বলেন:
“আমি কর না দিলেও এর চেয়ে বেশি সাজা পেতাম। তারা আমাদের মেয়ের সাথে যা করেছে তা একেবারেই জঘন্য। সে আক্ষরিক অর্থেই একজন মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সে কিছুই বলেনি, কখনও নিজের ভুল স্বীকার করেনি। এটিই প্রমাণ করে যে কী ধরনের নিকৃষ্ট মানুষের সাথে আমাদের লড়তে হয়েছে।”
সাজাটি পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত মনে না হলেও, শিশুটির সাহসিকতা একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। তার সাক্ষ্যের কারণেই অরবিন্দ সিং একজন শিশু যৌন অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং সে আর কখনোই শিশুদের সাথে কাজ করতে পারবে না।
ভুক্তভোগীর মা গর্বের সাথে বলেন, “সে অবিশ্বাস্য, সবচেয়ে সাহসী একটি ছোট্ট মেয়ে। সে এই পৃথিবীতে একটি পরিবর্তন এনেছে। তাকে (সিংকে) সাজা দেওয়ার জন্য আমাদের লড়তে হয়েছে, যাতে সে আর কখনও শিশুদের সাথে কাজ করতে না পারে।”
সাজার মেয়াদ শেষে সিংকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিজিতে ফেরত পাঠানো হবে এবং বাকি জীবন তাকে একজন ‘সাজাপ্রাপ্ত পেডোফাইল’ হওয়ার কলঙ্ক নিয়ে কাটাতে হবে।
এদিকে, আদালতকে জানানো হয়, এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণে শিশুটি এখনো ভয় এবং উদ্বেগে ভুগছে এবং নিজের বিছানায় ঘুমাতে তার সমস্যা হয়। শিশুটির মা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এমন একটি চাইল্ডকেয়ার সিস্টেমের উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম যারা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেই সিস্টেম আমাদের হতাশ করেছে, তারা আমাদের মেয়েকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au