অস্ট্রেলিয়া

ইরানি অবরোধ ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার পথে কার্গো জাহাজ

জাহাজটি সাধারণত শুষ্ক পণ্য পরিবহন করে থাকে। তবে এবারের যাত্রায় এটি খালি অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। ফলে দেশটির জ্বালানি সংকট নিরসনে এর তেমন কোনো ভূমিকা থাকবে না।

  • 6:09 pm - March 25, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৬০ বার
জাপানের মালিকানাধীন ‘আইরন মেইডেন’। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানের আরোপিত অবরোধ ভেঙে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা একটি বাল্ক কার্গো জাহাজ অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। জাপানের মালিকানাধীন ‘আইরন মেইডেন’ নামের এই জাহাজটি ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ার কুইনানা বন্দরে বৃহস্পতিবার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম, যা সফলভাবে অঞ্চলটি ত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে যাচ্ছে।

জাহাজটির গত এক মাসের গতিপথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এটি চলতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময় জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জেবেল আলি বাণিজ্যিক বন্দরে অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে উপসাগরজুড়ে ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালিতে তখন জাহাজ চলাচল অনেক ধীর হয়ে যায়। হামলার ঝুঁকি ও বীমা ব্যয়ের আকস্মিক বৃদ্ধির কারণে অনেক জাহাজই অপেক্ষায় ছিল।

গত ২ মার্চ ‘আইরন মেইডেন’ তার বহন করা পণ্য খালাস করে বন্দর ছেড়ে দেয় এবং অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে প্রণালি অতিক্রমের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায় যোগ দেয়। প্রায় দুই দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে ভাসমান থাকার পর ৪ মার্চ সন্ধ্যার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সূর্যাস্তের পর অন্ধকারের সুযোগে জাহাজটি দ্রুতগতিতে প্রণালির দিকে এগিয়ে যায় এবং পুরো রাত ধরে যাত্রা অব্যাহত রাখে। এ সময় জাহাজটির ট্রান্সপন্ডারে ‘চায়না ওনার’ বার্তা প্রচার করা হচ্ছিল। স্থানীয় সময় ৫ মার্চ রাত প্রায় ২টার দিকে জাহাজটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম শুরু করে।

যাত্রাপথে জাহাজটি ইরানের দিক থেকে যতটা সম্ভব দূরে থেকে শিপিং লেনের দক্ষিণ অংশ ঘেঁষে চলাচল করে এবং ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যায়, যা এ ধরনের জাহাজের প্রায় সর্বোচ্চ গতি। হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় জাহাজটি কিছু সময়ের জন্য তার ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ রাখে।

হরমুজ প্রণালি। ছবিঃ সংগৃহীত

প্রায় এক ঘণ্টা পর আবার সিগন্যাল চালু করে জাহাজটি এবং তখন তার গতি আরও বাড়িয়ে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ত্যাগ করে। ১৭ মার্চ এটি সিঙ্গাপুরে অস্থায়ীভাবে নোঙর করে এবং সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।

জাহাজটি সাধারণত শুষ্ক পণ্য পরিবহন করে থাকে। তবে এবারের যাত্রায় এটি খালি অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। ফলে দেশটির জ্বালানি সংকট নিরসনে এর তেমন কোনো ভূমিকা থাকবে না।

অন্যদিকে চলমান সংঘাতের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী মাসে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় তেল আনার জন্য নির্ধারিত অন্তত ছয়টি ট্যাংকারের যাত্রা বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে বিকল্প উৎস থেকে কিছু সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর একটি দল শুক্রবার ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় নেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনী মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে।

একই সঙ্গে আরও প্রায় তিন হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা আকাশপথে দ্রুত অভিযান পরিচালনায় সক্ষম বিশেষ বাহিনীর সদস্য।

এই সামরিক তৎপরতা এমন এক সময় বাড়ানো হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতেও একই ধরনের কৌশল দেখা গিয়েছিল, যখন একদিকে সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছিল, অন্যদিকে চলছিল কূটনৈতিক আলোচনা।

সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

একজন সামরিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন মেরিন মোতায়েন করা হলে ইরানের হামলার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে এবং জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরতে পারে।

তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে থাকা ড্রোন ও দ্রুতগতির নৌযান দিয়ে তারা এখনও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম। যদিও সরাসরি বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতিদিন যেখানে শতাধিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করত, সেখানে এখন অনেক জাহাজই ঝুঁকি এড়িয়ে বিকল্প পথ খুঁজছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।

সূত্রঃ এবিসি নিউজ

এই শাখার আরও খবর

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ, বীর সন্তানদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি

মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন…

পানি থেকে তোলা হচ্ছে বাস, বের হচ্ছে লাশ

মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটির উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানির নিচে থাকা বাসটির সামনের…

শহীদ মিনারে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ‘আলোর মিছিল’

মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোর মিছিল’ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। বুধবার (২৫…

পুরোনো রাউটার নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিল এফবিআই

মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- পুরোনো রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে মার্কিন সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘এভিরিকন’ (AVrecon) নামের একটি বিপজ্জনক…

এবার জ্বালানি সংকটে ‘করোনার পরিস্থিতি’ হতে পারে এশিয়াজুড়ে

মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়াজুড়ে ‘করোনা-সদৃশ’ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপ এবং এর জেরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন…

৭ বছর পর ইরান থেকে এলপিজি কিনল ভারত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রভাব

মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- সাময়িকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রেক্ষাপটে সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ইরান থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করেছে ভারত। জ্বালানি বাণিজ্যের তথ্য…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au