মহান স্বাধীনতা দিবস আজ, বীর সন্তানদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস যাত্রী নিয়ে পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে ৪০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী এতে ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে কিংবা স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী পাড়ে উঠেছেন বলে জানা যায়। পরে উদ্ধার অভিযানে আরও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো বাসটির ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে নেমে বাসটির অবস্থান শনাক্ত এবং ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে এসে অভিযান জোরদার করেছে।
দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৪০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে এবং নদীর তলদেশে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ কাত হয়ে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে অনেক যাত্রী বের হয়ে আসার সুযোগই পাননি। স্থানীয় জেলেরা এবং ঘাটে থাকা লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন এবং তাদের প্রিয়জনদের খোঁজ জানতে চেষ্টা করছেন। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং রাতভর অভিযান চালানো হতে পারে। নদীর স্রোত ও পানির গভীরতা উদ্ধার কাজে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিতে ওঠার সময় ভারসাম্যহীনতা বা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই বাসটি নদীতে পড়ে যেতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে তৎপর রয়েছে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au