মহান স্বাধীনতা দিবস আজ, বীর সন্তানদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানের নাগরিকদের অস্থায়ী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ ও পুনঃপ্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্তকে ‘জাতীয় স্বার্থে’ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইরানি পাসপোর্টধারী যেসব ব্যক্তি ভিজিটর ভিসা (সাবক্লাস ৬০০) নিয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করছেন, তারা আর দেশে পুনঃপ্রবেশ করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার চার সপ্তাহের বেশি সময় পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সাধারণত ভিজিটর ভিসাধারীরা পর্যটন, ব্যবসা বা পারিবারিক কারণে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করতে পারেন। তবে নতুন এই বিধিনিষেধ ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার স্বামী বা স্ত্রী, সহবাস সঙ্গী, নির্ভরশীল সন্তান কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের অভিভাবকরা নির্দিষ্ট শর্তে দেশে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক অস্থায়ী ভিসাধারী তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত যেতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম হতে পারেন। নতুন এই নীতির মাধ্যমে সরকারকে বিষয়গুলো মূল্যায়নের জন্য সময় দেবে, পাশাপাশি সীমিত ক্ষেত্রে নমনীয়তাও বজায় রাখা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, ইরান পরিস্থিতির আগে যেসব ভিজিটর ভিসা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদন করা হলে সেগুলোর অনেকগুলোই হয়তো অনুমোদিত হতো না। তিনি আরও বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত সরকার সচেতনভাবে নেবে, এটি কোনো ছুটির পরিকল্পনার আকস্মিক ফল হতে পারে না।”
তিনি জানান, সরকার বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে, যাতে তা সুশৃঙ্খল, ন্যায্য ও টেকসই থাকে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাদের সক্রিয় পারমিটেড ট্রাভেল সার্টিফিকেট রয়েছে বা অন্য কোনো ধরনের ভিসা রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রবেশের অনুমতি পেতে পারেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকা ব্যক্তিরা নতুন করে ভিসার আবেদন করতে পারবেন।
বিশেষ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের অভিভাবকদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
তবে এই সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থার প্রধান কন কারাপানাগিওটিডিস বলেন, এই নীতির মাধ্যমে নিরাপত্তা খুঁজতে আসা মানুষের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তার প্রশ্ন, যারা ইতোমধ্যে বৈধ ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চেয়েছিলেন এবং তাদের দেশে সহিংসতা শুরু হয়েছে, তাদের সহায়তা না করার কারণ কী?
তিনি আরও বলেন, একই সময়ে সরকার ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যদের জন্য দ্রুত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কঠোরতা দেখাচ্ছে, যা বৈপরীত্যপূর্ণ।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যদের আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলটির মাত্র দুইজন খেলোয়াড় সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার যুক্তি সামনে এনে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে মানবিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au