মহান স্বাধীনতা দিবস আজ, বীর সন্তানদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও প্রস্তাবটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এর গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব কমিয়ে আনা।
শান্তি প্রস্তাবে ইরানের প্রতি প্রধান শর্তগুলো হলো:
১. নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোসহ সব পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ বন্ধ ও ধ্বংস করতে হবে।
২. সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করতে হবে।
৪. বর্তমানে বিদ্যমান সব পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করতে হবে।
৫. কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।
৬. ইরানের ভেতরে কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান সব সমৃদ্ধ উপাদান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
৭. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং এটিকে একটি মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
৮. ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে এবং তা কেবল আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব শর্ত মেনে নিলে ইরানকে কিছু সুবিধাও দেওয়া হতে পারে। সেগুলো হলো:
১. বুশেহরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা।
২. ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৩. ভবিষ্যতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার নিশ্চয়তা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করে আসছে, ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এসব হামলায় ইরানের কমান্ড কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতাও কমে এসেছে। তাদের মতে, সংঘাত এখন শেষের দিকে এগোনোর কথা।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে। উত্তেজনা কমার বদলে আরও বেড়েছে এবং সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
শনিবার জানা গেছে, ইরান প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটির দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়নি, তবুও এই ঘটনা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এতদিন ধারণা করা হতো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে সামরিক চাপ ইরানের অগ্রগতি থামাতে পারেনি। বরং তারা কীভাবে এই সক্ষমতা বজায় রেখেছে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি-এর অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। তার পরবর্তী নেতৃত্বে থাকা মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। কেবল দুটি লিখিত বার্তা ছাড়া তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই নীরবতা ইরানের ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ফলে একদিকে শান্তি প্রস্তাব সামনে এলেও অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au