বিপজ্জনক পথে সমুদ্র পাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ মার্চ- উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী বিপজ্জনক সমুদ্রপথে আবারও প্রাণঘাতী ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেছে। ভূমধ্যসাগরে ছয় দিন খাদ্য ও পানি ছাড়া ভেসে থাকার পর ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।
গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ক্রেটা দ্বীপ সংলগ্ন এলাকা থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এসব অভিবাসীকে উদ্ধার করে। জীবিতদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। এছাড়া চারজন দক্ষিণ সুদান এবং একজন চাদের নাগরিকও রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, যাত্রাপথে মারা যাওয়া অভিবাসীদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, নৌকাটি ২১ মার্চ তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিস এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে পথ হারিয়ে ফেলে তারা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ছয় দিন ধরে সমুদ্রে ভাসতে থাকে।
এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে আটক করেছে, যাদের মানবপাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন। একইভাবে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর সীমান্তনীতি ও দালালচক্রের সক্রিয়তার কারণে ভূমধ্যসাগর এখনও বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট হিসেবে রয়ে গেছে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান