মেলবোর্ন, ২৯ মার্চ- ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে খাবারের ও পানির সংকটের কারণে মারা গেছেন সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে আসার সময় ১৮ জনের মধ্যে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। মারা যাওয়াদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন।
গ্রিসের একটি অভিবাসন শিবিরে রাখা যুবক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), যিনি নিজে হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা, প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নৌযানটি ছয় দিন সাগরে ছিল এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকেই মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মৃতদের পরিচয় নিম্নরূপ:
- দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০),
- আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮),
- ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫),
- একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮),
- দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম,
- জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান,
- টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমেদ,
- চিলাউড়া কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম,
- পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান,
- ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী।
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সদস্য নুরুল ইসলাম ও পাইলগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান, দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন নিহতদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, মৃতদের নাম–পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। নিহতদের অধিকাংশ লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, বাকি যারা উদ্ধার হয়েছেন তাঁদের গ্রিসের ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
একই সময়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিস যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন এবং গত মাসে বাড়ি থেকে রওনা দেন। লিবিয়া পৌঁছানোর পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।