হামসহ ১০ রোগের টিকার সংকট , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ মার্চ- ঈদের আগে নরসিংদী থেকে আসা ছয় মাসের শিশু মোহাম্মদ হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পুনরায় জাতীয়ভাবে টিকার ঘাটতি এবং সংক্রমণ পরিস্থিতি সামনে এসেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ও সরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমে গেছে। চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আট বছর আগে হামের টিকা শেষবার দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং যথাসময়ে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ শুরু করা হবে। শিশুদের চিকিৎসার জন্য মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, মানিকগঞ্জ ও উত্তরাঞ্চলের হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দেশে ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) মাধ্যমে ১২টি রোগ প্রতিরোধে ৯টি টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, বিওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি-এই ছয়টি টিকার মজুত শূন্য। আইপিভি ও টিসিভি চলবে জুন পর্যন্ত এবং এইচপিভির মজুত আছে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে মাঠপর্যায়ে টিকার ঘাটতি ও জনবলসংকট দেখা দিচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলায় ৩৭ জেলায় জনবল সংকট প্রকট; এই জেলায় মাঠকর্মীর ৪৫ শতাংশই অনুপস্থিত।
দাতা সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বে টিকা কেনা হতো স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচিতে (এইচপিএনএসপি) থাকা অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের আগস্টে এই ব্যবস্থাটি বাতিল করা হয়, যার ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থছাড়ে বিলম্ব হয়েছে।
শনিবার দুপুর থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১৯, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ এবং শরীয়তপুরের উত্তর সিটি করপোরেশন মার্কেট হাসপাতালে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, “হামে এত শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। টিকা ফুরানোর কারণ ও শিশুরা কেন মারা গেছে তা তদন্ত করা জরুরি। এটি চলতে দেওয়া যায় না।”
সংক্ষেপে, টিকার ঘাটতি, জনবল সংকট এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশে হামসহ অন্যান্য রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো