বকেয়া না মেটানোয় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বাতিল
মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ- চুক্তি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচার বাতিল করেছে স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান জিয়োহটস্টার। ফলে চলতি আসরে দেশের…
মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ- ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। সোমবার তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ইসমাইল বাগাই বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হিসেবে সবসময়ই দায়বদ্ধ রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের অধিকার বজায় রেখেছে। তবে এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ করে দেশটি বাস্তবে কতটা সুফল পাচ্ছে, তা নিয়ে এখন পার্লামেন্ট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যে অধিকার থাকার কথা, ইরান তা পূর্ণমাত্রায় পাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো এবং একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক এবং এতে সামরিক কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে আসছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বোর্ড অব গভর্নরস একটি প্রস্তাবে ইরানকে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। সেই প্রেক্ষাপটেই চুক্তির কার্যকারিতা ও বাস্তব সুফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান।
এদিকে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ধাপে ধাপে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হচ্ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। কখনো ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস, কখনো শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন, আবার কখনো দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটোর কার্যকারিতা খুব সীমিত। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর যেকোনো উপায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলে দেওয়া হবে। ইরান স্বেচ্ছায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রণালি খুলে দিক কিংবা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে। যুদ্ধ শেষে যদি ইরান আবারও প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, একদিকে ইরানের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির দাবি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং সামরিক উত্তেজনা—এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au