বাঁ থেকে- সীতা বাদি, সবিতা গৌতম, প্রতিভা রাওয়াল, নিশা মেহতা ও গীতা চৌধুরী, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ- দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নেপাল। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় ৩৩ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত করে নতুন সরকার গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘বলেন শাহ’ নামেই বেশি পরিচিত।
গত শুক্রবার রাজধানী কাঠমান্ডু-এর রাষ্ট্রপতি ভবন ‘শীতল নিবাসে’ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-এর নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় পাঁচজন নারী স্থান পেয়েছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন সবিতা গৌতম। ৩০ বছর বয়সী এই আইনজীবী বর্তমানে কাঠমান্ডু স্কুল অব ল’-এ এলএলএম করছেন এবং গত ৫ মার্চ চিতওয়ান-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
মহিলা, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন সীতা বাদি, যিনি প্রান্তিক ‘বাদি’ সম্প্রদায় থেকে উঠে এসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলিত ও বাদি নারীদের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
ফেডারেল অ্যাফেয়ার্স ও সাধারণ প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতিভা রাওয়াল। সাংবাদিকতা পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেত্রী ‘গ্যালাক্সি টেলিভিশন’-এ প্রোগ্রাম প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছেন এবং তাকে অতিরিক্তভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমবায় ও দারিদ্র্য বিমোচন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রী হয়েছেন নিশা মেহতা, যিনি পেশায় একজন অভিজ্ঞ নার্স এবং স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের অঙ্গীকার করেছেন। আর কৃষি, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন গীতা চৌধুরী, যিনি থারু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।
নেপালের সংবিধান অনুযায়ী সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক হলেও মন্ত্রিসভায় এই লক্ষ্য আগে কখনো অর্জিত হয়নি। ২০২২ সালে ২৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী ছিলেন ৬ জন, আর ২০১৭ সালে শের বাহাদুর দেউবার ৫৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী ছিলেন মাত্র ৮ জন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ কেবল সংখ্যাগত লক্ষ্য পূরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তার মন্ত্রিসভায় খাস আর্য, দলিত, বাদি, মাধেসি, থারু ও জনজাতিসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বলেন্দ্র শাহ নিজেও মাধেসি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
একই দিনে রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল তাকে শপথ পড়ান। ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ নেপালের ইতিহাসে অন্যতম তরুণ প্রধানমন্ত্রী এবং ২০২২ সালে কাঠমান্ডু সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন।
তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি সাম্প্রতিক নির্বাচনে ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৮২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন মন্ত্রিসভা নেপালের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব ও সামাজিক বৈচিত্র্যের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে।
সূত্র: দ্য হিমালয়ান টাইমস