মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের ফাইল ছবি: এপি
মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এ ইস্যুতে সবচেয়ে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে জানায়, ইরান-সংক্রান্ত কোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকাশপথ বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার পথে মার্কিন বিমানগুলোকে এখন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবেলস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা আমাদের আকাশপথ বা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবো না। স্পেনের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—এই যুদ্ধ অন্যায় এবং অবৈধ।”
এর আগে থেকেই স্পেন জানিয়ে আসছিল, তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলোও এই যুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ শুরু থেকেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি অবৈধ কাজের জবাব আরেকটি অবৈধ কাজ দিয়ে দেওয়া যায় না, এতে মানবজাতির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।
স্পেনের এই অবস্থানের জেরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার নীতির অংশ।
স্প্যানিশ কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ জানান, রোটা ও মোরোন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সব আবেদন এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যদিও ইউরোপে অবস্থানরত প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনার লজিস্টিক সহায়তার ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী কিছু সুবিধা বহাল থাকবে, তবে যুদ্ধসংক্রান্ত কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে স্পেনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৫টি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান সরিয়ে ফ্রান্স ও জার্মানিতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৭০টি মার্কিন সামরিক ফ্লাইট স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোবেলস তা অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে স্পেন কখনোই তৃতীয় কোনো দেশে সরাসরি হামলার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। ইরান পরিস্থিতিতেও সেই নীতিতেই অনড় থাকলো মাদ্রিদ।