জাতীয় সংসদ ভবন।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ মার্চ- বিএনপি জানিয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং এটি সংসদে উত্থাপন করা হবে না। বিএনপি বলেছে, অধ্যাদেশ ব্যবহার হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এর আর কোনো প্রয়োগ নেই, তাই এটি পাস করার প্রয়োজন নেই। সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তে জামায়াত নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।
রোববার রাতে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভায় এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ২ এপ্রিল কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে সংসদে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে উত্থাপন করা হয়। ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত না হলে অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সভার পর জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে অধ্যাদেশটি ব্যবহার হয়ে গেছে। সংসদে এ অধ্যাদেশ অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “গণভোট হয়েছে, অধ্যাদেশের আর কোনো ব্যবহার নেই। এটি আইনে রূপান্তর করার প্রয়োজন নেই।”
এছাড়া বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশের ওপর আলোচনা করেছে। কতগুলো সংসদে উত্থাপন হবে, তা ২ এপ্রিল জানা যাবে। কিছু অধ্যাদেশ হুবহু পাস হবে, কিছু সংশোধনী আকারে উত্থাপন করা হবে।
বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মতো ১৫টি অধ্যাদেশে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারি দল মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের মতো দলীয়করণের চেষ্টা করছে।
রফিকুল ইসলাম জানান, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তবে সরকার এগুলোকে আগের অবস্থায় ফেরাতে চাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ কমিটির তৃতীয় দিনের সভা সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কমিটির সভাপতিত্ব করেন জয়নুল আবেদীন। সভায় অংশ নেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং মো. মুজিবুর রহমান। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন মজিবুর রহমান ও জিএম নজরুল ইসলাম। এছাড়া কমিটির আমন্ত্রণে অংশ নেন জামায়াতের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।
সংক্ষেপে, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হলেও, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ১৫টির ওপর বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, যা সংসদে পুনরায় আলোচনা ও অনুমোদনের অপেক্ষায়।